📑 Table of Contents

BJSC Job Circular 2026: বাংলাদেশের সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য ২০২৬ সালের মে মাসে একটি অত্যন্ত খুশির খবর প্রকাশিত হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অন্যতম সম্মানিত এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয় তাদের শূন্য পদগুলোতে বিশাল জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে নতুন জব সার্কুলার ২০২৬ প্রকাশ করেছে। আপনি যদি বাংলাদেশে একটি স্থায়ী, নিরাপদ এবং অত্যন্ত সম্মানজনক সরকারি চাকরি খুঁজে থাকেন, তবে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ আপনার জন্য একটি দুর্দান্ত ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ হতে পারে। সরকারি নিয়মনীতি মেনে অত্যন্ত আকর্ষণীয় জাতীয় বেতন স্কেলে এই সমগ্র নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হবে। এই চাকুরির মাধ্যমে দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রশাসনিক ও সাচিবিক কার্যক্রমে সরাসরি অবদান রাখার সুযোগ তৈরি হয়, যা যে কোনো চাকরিপ্রার্থীর জন্য একটি পরম সৌভাগ্যের বিষয়।

আজকের এই অত্যন্ত বিস্তারিত এবং তথ্যবহুল আর্টিকেলে আমরা বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির অফিসিয়াল নোটিশ, আবেদনের সুনির্দিষ্ট যোগ্যতা, ক্যাটাগরিভিত্তিক পদ সংখ্যা, বয়সসীমা, অনলাইন আবেদন ফরম পূরণ ও সাবমিট করার সঠিক নিয়ম এবং টেলিটক এসএমএস এর মাধ্যমে আবেদন ফি জমা দেওয়ার এ-টু-জেড গাইডলাইন শেয়ার করব। যারা ঘরে বসেই কোনো ধরনের ভুলত্রুটি ছাড়া নিজের মোবাইল বা কম্পিউটার দিয়ে নিখুঁতভাবে আবেদন সম্পন্ন করতে চান, তারা পুরো পোস্টটি মনোযোগ সহকারে শেষ পর্যন্ত পড়ুন। আমাদের এই গাইডলাইনটি আপনাকে কোনো প্রকার থার্ড পার্টির সাহায্য ছাড়াই সম্পূর্ণ আবেদন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে শতভাগ সাহায্য করবে।

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন (BJSC) এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন যা সংক্ষেপে বিজেএসসি নামে পরিচিত, এটি হলো বাংলাদেশ সরকারের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ, সংবিধিবদ্ধ এবং স্বাধীন কমিশন। মূলত বাংলাদেশের অধস্তন আদালতসমূহের বিচারক বা সহকারী জজ পদে নিয়োগের জন্য উপযুক্ত ও মেধাবী প্রার্থী বাছাই, পরীক্ষা গ্রহণ এবং সরকারের কাছে চূড়ান্ত সুপারিশ করার প্রধান দায়িত্ব এই কমিশনের ওপর ন্যস্ত। তবে বিচারক নিয়োগের পাশাপাশি জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের নিজস্ব প্রশাসনিক ও সাচিবিক কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নন-ক্যাডার কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে। এই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এবং এখানকার কাজের পরিবেশ অন্যান্য সাধারণ সরকারি দপ্তরের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত ও সুশৃঙ্খল।

বিজেএসসি সচিবালয়ে কর্মসংস্থান হওয়া মানে একটি চমৎকার সামাজিক মর্যাদা এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার সিকিউরিটি নিশ্চিত করা। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়, ১৫, কলেজ রোড, ঢাকা-১০০০ ঠিকানায় এর প্রধান কার্যালয় বা সেক্রেটারিয়েট অবস্থিত। এখান থেকেই সমগ্র বাংলাদেশের বিচার বিভাগীয় নিয়োগ এবং প্রশাসনিক নীতিমালার সিংহভাগ নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়। ফলে এই প্রতিষ্ঠানে যেকোনো পদে চাকরি পাওয়া একজন চাকুরিজীবীর জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।

BJSC Job Circular 2026 Key Highlights

আবেদনের মূল প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করার আগে এই বিশাল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির প্রধান প্রধান পয়েন্ট বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো এক নজরে দেখে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এর মাধ্যমে আপনি সার্কুলারটির একটি স্পষ্ট এবং স্বচ্ছ সারসংক্ষেপ পেয়ে যাবেন, যা আপনাকে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে সাহায্য করবে।

বিষয়ের বিবরণ অফিসিয়াল তথ্য ও নির্দেশনাবলী
প্রতিষ্ঠানের নাম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন (BJSC)
চাকরির ধরন স্থায়ী সরকারি চাকরি (Permanent Government Job)
মোট পদের ক্যাটাগরি ০৮ + ০৪ = ১২টি ক্যাটাগরি
মোট শূন্য পদ ৯৬৮ + ০৫ = ৯৭৩টি পদ
অফিশিয়াল ওয়েবসাইট https://bjsc.gov.bd/
আবেদনের মাধ্যম অনলাইন পোর্টাল (bjsccr.teletalk.com.bd)
আবেদন শুরুর তারিখ ১৮ ও ১৯ মে ২০২৬, সকাল ১০:০০ টা থেকে
আবেদনের শেষ তারিখ ০৪ ও ১০ জুন ২০২৬, বিকাল ০৫:০০ টা পর্যন্ত

পদভিত্তিক বিবরণ ও শিক্ষাগত যোগ্যতা

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয় ২০২৬ সালের এই নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মোট ৯৭৩ জন যোগ্য প্রার্থীকে বিভিন্ন পদে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেবে। এখানে জুনিয়র লেভেল থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষিত অভিজ্ঞ ও অনভিজ্ঞ উভয় ধরনের প্রার্থীর জন্যই আবেদনের সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত পদসমূহের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা অত্যন্ত নমনীয় রাখা হয়েছে যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের যোগ্য প্রার্থীরাও অংশ নিতে পারেন। পদ অনুযায়ী জেএসসি, জেডিসি, এসএসসি, এইচএসসি, স্নাতক বা ডিগ্রি এবং স্নাতকোত্তর পাস প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। আপনি যদি নতুন বা ফ্রেশার হয়ে থাকেন, তবে আপনার চিন্তার কোনো কারণ নেই, কারণ অধিকাংশ পদের জন্যই কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই।

এই সরকারি চাকরিতে লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করা হয়েছে, যার ফলে বাংলাদেশের সকল যোগ্য পুরুষ এবং মহিলা নাগরিক সমানভাবে আবেদন করতে পারবেন। বিজ্ঞপ্তিতে মোট ১২টি ক্যাটাগরি রয়েছে যার মধ্যে প্রথম বিজ্ঞপ্তিটিতে ৮টি ক্যাটাগরিতে ৯৬৮ জন এবং দ্বিতীয় বিজ্ঞপ্তিতে ৪টি ক্যাটাগরিতে ৫ জনসহ সর্বমোট ৯৭৩ জন জনবল নেওয়া হবে। কোন পদের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে কী শিক্ষাগত যোগ্যতা, টাইপিং স্পিড বা টেকনিক্যাল স্কিল প্রয়োজন এবং কোন কোন জেলার প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন, তা বিস্তারিত জানতে অফিসিয়াল মূল সার্কুলার নোটিশটি ডাউনলোড করে দেখে নেওয়া ভালো। তবে সাধারণ পদগুলোর জন্য যেকোনো স্বীকৃত বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করলেই আবেদন করা যাবে।

আবেদনের বয়সসীমা ও বয়স যাচাইয়ের নিয়ম

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন নিয়োগ ২০২৬-এ সাধারণ কোটার প্রার্থীদের আবেদনের জন্য বয়সসীমা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। আবেদনকারীর সর্বনিম্ন বয়স হতে হবে ১৮ বছর এবং সর্বোচ্চ বয়স হতে হবে ৩২ বছর। সরকারি চাকুরির ক্ষেত্রে এই বয়সসীমা অত্যন্ত আদর্শ এবং এর ফলে অনেক তরুণ চাকরিপ্রার্থী আবেদন করার সুযোগ পাবেন। কোটাধারী প্রার্থী যেমন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বা শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সরকারি বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ বয়সসীমা শিথিলযোগ্য হতে পারে, যা সর্বোচ্চ ৩২ বছর পর্যন্ত বহাল থাকবে।

বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র বা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ অফিসিয়াল ডকুমেন্ট হিসেবে গণ্য করা হবে। অনলাইন আবেদন ফরম পূরণ করার সময় আপনার সার্টিফিকেটের জন্ম তারিখের সাথে এনআইডি বা জন্ম নিবন্ধনের তথ্যের মিল থাকতে হবে। কোনো প্রার্থী যদি বয়স প্রমাণের জন্য এফিডেভিট বা হলফনামা প্রদর্শন করেন, তবে তা সম্পূর্ণভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে। তাই আবেদন করার সময় নিজের বয়সসীমা বিজ্ঞপ্তির শর্তাবলীর সাথে মিলিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

BJSC নিয়োগ ২০২৬ এর অফিসিয়াল সার্কুলার প্রকাশনা

চাকরিতে আবেদন করার আগে মূল বিজ্ঞপ্তিটি স্বচক্ষে দেখে নেওয়া এবং এর সোর্স সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন কর্তৃপক্ষ গত ১৪ মে ২০২৬ এবং ১৯ মে ২০২৬ তারিখে দুটি ভিন্ন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নিয়োগের ঘোষণা দেয়। প্রথম বিজ্ঞপ্তিটি ১৪ মে ২০২৬ তারিখে দৈনিক অমর দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং দ্বিতীয় বিজ্ঞপ্তিটি ১৯ মে ২০২৬ তারিখে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে নোটিশ আকারে প্রকাশ করা হয়। দুটি বিজ্ঞপ্তিরই অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া টেলিটকের অফিশিয়াল পোর্টাল bjsccr.teletalk.com.bd এর মাধ্যমে পরিচালনা করা হচ্ছে।

প্রথম বিজ্ঞপ্তির জন্য অনলাইন আবেদন শুরু হয়েছে ১৮ মে ২০২৬ তারিখ সকাল ১০:০০ টা থেকে এবং আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ০৪ জুন ২০২৬ বিকাল ০৫:০০ টা পর্যন্ত। অন্যদিকে, দ্বিতীয় বিজ্ঞপ্তির জন্য আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ১৯ মে ২০২৬ সকাল ১০:০০ টায় এবং আবেদন করার শেষ সময় ১০ জুন ২০২৬ বিকাল ০৫:০০ টা পর্যন্ত। প্রার্থীরা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী যেকোনো একটি বা উভয় বিজ্ঞপ্তির নির্দিষ্ট পদে আবেদন করতে পারবেন, তবে প্রতিটি পদের জন্য আলাদাভাবে আবেদন ফি জমা দিতে হবে। উচ্চ রেজোলিউশনের সার্কুলার ইমেজটি দেখতে এবং ডাউনলোডের জন্য কমিশনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করে নোটিশ বোর্ড চেক করার অনুরোধ করা হলো।

BJSC Job Circular 2026 All(two)

BJSC Job Circular 2026

আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রাক-প্রস্তুতি

অনলাইনে টেলিটক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফরম পূরণ করার সময় এবং পরবর্তীতে লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষার সময় আপনার কিছু জরুরি ডকুমেন্টের প্রয়োজন হবে। আবেদনের পূর্বেই এই জিনিসগুলো স্ক্যান করে বা নির্দিষ্ট সাইজ অনুযায়ী আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারে রেডি রাখা উচিত যাতে ফরম পূরণের সময় কোনো ঝামেলা না হয়। প্রথমত আপনার একটি সাম্প্রতিক তোলা স্পষ্ট রঙিন ছবি লাগবে যার সাইজ হতে হবে ৩০০×৩০০ পিক্সেল এবং ফাইল ফরম্যাট হতে হবে জেপিজি, যার সর্বোচ্চ সাইজ ১০০ কেবির বেশি হওয়া যাবে না। দ্বিতীয়ত আপনার একটি স্পষ্ট ডিজিটাল স্বাক্ষর লাগবে যার সাইজ হতে হবে ৩০০×৮০ পিক্সেল এবং ফাইল সাইজ সর্বোচ্চ ৬০ কেবি হতে হবে।

Read More:-নতুনদের জন্য HR & Admin Career Roadmap: কর্পোরেট ক্যারিয়ার গড়ার সম্পূর্ণ গাইডলাইন

এছাড়াও আপনার সকল স্তরের শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট এবং মার্কশিট সাথে রাখতে হবে যাতে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং জিপিএ বা সিজিপিএ সঠিকভাবে ইনপুট দেওয়া যায়। জাতীয় পরিচয়পত্র বা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন নম্বর আবেদনের নির্দিষ্ট ঘরে বসানোর জন্য প্রস্তুত রাখবেন। আপনি যদি কোনো বিশেষ কোটার সুবিধা নিতে চান, যেমন মুক্তিযোদ্ধা কোটা, এতিম কোটা, প্রতিবন্ধী কোটা, আনসার বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটা, তবে সংশ্লিষ্ট যথাযথ কর্তৃপক্ষের দেওয়া ডিজিটাল বা মূল সার্টিফিকেটটি স্ক্যান করে কাছে রাখা ভালো, কারণ আবেদনের সময় কোটার অপশনটি সঠিকভাবে সিলেক্ট করতে হবে।

BJSC অনলাইন আবেদন করার নিয়ম: স্টেপ-বাই-স্টেপ নির্দেশিকা

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন (BJSC)-এর সমগ্র আবেদন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। টেলিটক বাংলাদেশের কারিগরি সহযোগিতায় এই অনলাইন পোর্টালটি অত্যন্ত চমৎকারভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। নিচে দেওয়া সহজ ধাপগুলো অনুসরণ করে আপনি নিজেই কোনো ভুল ছাড়া নিজের আবেদন ফরমটি নিখুঁতভাবে পূরণ করতে পারবেন।

প্রথম ধাপে আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউজার ওপেন করে bjsccr.teletalk.com.bd এই লিংকে প্রবেশ করতে হবে। ওয়েবসাইটটি লোড হওয়ার পর হোমপেজে আপনি অ্যাপ্লিকেশন ফরম বা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সংক্রান্ত একটি লিংক দেখতে পাবেন, সেখানে ক্লিক করুন। এরপর কমিশনের অধীনে যে সকল পদের ক্যাটাগরি রয়েছে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা আপনার স্ক্রিনে চলে আসবে। আপনি আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী যে নির্দিষ্ট পদে আবেদন করতে চান, সেটি রেডিও বাটনে ক্লিক করে সিলেক্ট করুন এবং নিচে থাকা নেক্সট বাটনে ক্লিক করুন।

পরবর্তী ধাপে আপনার কাছে জানতে চাওয়া হবে আপনি টেলিটকের প্রিমিয়াম অলজবস মেম্বার কিনা। যদি অলজবস ডট টেলিটক ডট কম ডট বিডি ওয়েবসাইটে আপনার প্রোফাইল তৈরি করা থাকে এবং আপনি প্রিমিয়াম মেম্বারশিপ নিয়ে থাকেন, তবে ইয়েস সিলেক্ট করবেন, এতে আপনার সমস্ত তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফরমে চলে আসবে। আর যদি মেম্বার না হন, তবে সরাসরি নো সিলেক্ট করে নেক্সট বাটনে ক্লিক করবেন। এখন আপনার সামনে একটি বিস্তারিত অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন ফরম ওপেন হবে। এখানে আপনার নাম, পিতামাতার নাম, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা, জন্ম তারিখ, সচল মোবাইল নম্বর, ইমেইল আইডি, এনআইডি নম্বর এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সার্টিফিকেটের সাথে মিলিয়ে টাইপ করতে হবে।

ফরমের শেষ অংশে আপনার আগে থেকে সাইজ করে রাখা ৩০০×৩০০ পিক্সেলের রঙিন ছবি এবং ৩০০×৮০ পিক্সেলের সিগনেচার নির্দিষ্ট ব্রাউজ অপশনে ক্লিক করে আপলোড করে দিতে হবে। সমস্ত তথ্য আপলোড করা শেষ হলে পুরো ফরমটি ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত আরও একবার ভালো করে রিচেক করে নিন যে কোনো বানান বা নম্বরে ভুল আছে কিনা। সব তথ্য সঠিক থাকলে নিচে দেওয়া ডিক্লেয়ারেশন বক্সে টিক চিহ্ন দিয়ে সাবমিট অ্যাপ্লিকেশন বাটনে ক্লিক করুন। সফলভাবে সাবমিট হওয়ার পর আপনি স্ক্রিনে একটি অ্যাপ্লিকেন্টস কপি দেখতে পাবেন, যেখানে একটি ইউনিক ইউজার আইডি দেওয়া থাকবে। এই অ্যাপ্লিকেন্টস কপিটি অবশ্যই ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিজের কাছে নিরাপদ স্থানে রেখে দিন, কারণ এটি ছাড়া আপনি ফি জমা দিতে পারবেন না।

টেলিটক SMS এর মাধ্যমে আবেদন ফি জমা দেওয়ার নিয়ম

অনলাইনে শুধুমাত্র আবেদন ফরম সাবমিট করলেই আপনার আবেদনটি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত বা চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে beauties। ফরম সাবমিট করার পরবর্তী সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অবশ্যই একটি টেলিটক প্রিপেইড সিমের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ আবেদন ফি পরিশোধ করতে হবে। যদি আপনি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফি জমা না দেন, তবে আপনার অনলাইন অ্যাপ্লিকেশনটি সম্পূর্ণভাবে বাতিল হয়ে যাবে। কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী পদের ক্যাটাগরি এবং গ্রেড ভেদে আবেদন ফি যথাক্রমে ৫৬ টাকা (৫০ টাকা মূল ফি + ৬ টাকা টেলিটক চার্জ), ১১২ টাকা (১০০ টাকা ফি + ১২ টাকা টেলিটক চার্জ) অথবা ২২৩ টাকা (২০০ টাকা ফি + ২৩ টাকা টেলিটক চার্জ) নির্ধারিত রয়েছে। আপনার পদের জন্য সুনির্দিষ্ট কত টাকা ফি প্রযোজ্য, তা আপনার ডাউনলোড করা অ্যাপ্লিকেন্টস কপিতে স্পষ্ট লেখা থাকবে।

Read More:-শিক্ষা ক্যাডারের অধ্যাপক পদোন্নতির খসড়া তালিকা প্রকাশ: মাউশির জরুরি নির্দেশনা ও নিয়মাবলী

ফি জমা দেওয়ার জন্য আপনাকে আপনার টেলিটক প্রিপেইড সিম সম্বলিত মোবাইল থেকে পর পর দুটি এসএমএস পাঠাতে হবে। প্রথম এসএমএসটি পাঠানোর জন্য মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে বড় হাতের অক্ষরে টাইপ করুন BJSCCR এরপর একটি স্পেস দিয়ে আপনার অ্যাপ্লিকেন্টস কপিতে পাওয়া ইউনিক User ID টি লিখুন এবং মেসেজটি পাঠিয়ে দিন 16222 নম্বরে। উদাহরণস্বরূপ, আপনার User ID যদি হয় PONMLK, তবে আপনি মেসেজে লিখবেন BJSCCR PONMLK এবং পাঠাবেন 16222 নম্বরে। এই মেসেজটি পাঠানোর পর টেলিটক থেকে একটি ফিরতি মেসেজ আসবে, যেখানে আপনার নাম, কত টাকা ফি কাটা হবে এবং একটি ৮ ডিজিটের পিন নম্বর দেওয়া থাকবে।

প্রথম মেসেজের পিন নম্বরটি পাওয়ার পর আপনাকে দ্বিতীয় এসএমএসটি পাঠাতে হবে সম্মতি নিশ্চিত করার জন্য। এবার মেসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করুন BJSCCR এরপর স্পেস দিয়ে লিখুন YES এবং আবার স্পেস দিয়ে আপনার প্রাপ্ত ৮ ডিজিটের পিন নম্বরটি লিখে পুনরায় পাঠিয়ে দিন 16222 নম্বরে। উদাহরণস্বরূপ, আপনার পিন নম্বরটি যদি হয় 33445566, তবে আপনি মেসেজে লিখবেন BJSCCR YES 33445566 এবং পাঠিয়ে দেবেন 16222 নম্বরে। এই মেসেজটি সফলভাবে পাঠানো হলে আপনার সিম থেকে নির্দিষ্ট ফি কেটে নেওয়া হবে এবং টেলিটক থেকে একটি ফাইনাল কনফার্মেশন বা অভিনন্দন মেসেজ পাঠানো হবে। এই কনফার্মেশন মেসেজে একটি পাসওয়ার্ড দেওয়া থাকবে, যা আপনার ইউজার আইডির সাথে মিলিয়ে অত্যন্ত যত্ন সহকারে ডায়রিতে লিখে রাখতে হবে, কারণ পরবর্তীতে এডমিট কার্ড ডাউনলোডের সময় এটি অবশ্যই প্রয়োজন হবে।

BJSC হেল্প সেন্টার এবং কাস্টমার সাপোর্ট

অনলাইন আবেদন ফরম পূরণ করার সময় বা টেলিটক সিমের মাধ্যমে ফি জমা দেওয়ার সময় অনেক প্রার্থীই বিভিন্ন কারিগরি সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। যেমন সাময়িকভাবে সার্ভার ডাউন থাকা, সিম থেকে টাকা কেটে নেওয়ার পরও কনফার্মেশন মেসেজ বা পাসওয়ার্ড না পাওয়া, অথবা অসাবধানতাবশত ইউজার আইডি বা অ্যাপ্লিকেন্টস কপি হারিয়ে ফেলা। এই ধরনের যেকোনো উদ্ভূত সমস্যা সমাধানের জন্য টেলিটক বাংলাদেশ একটি ডেডিকেটেড হেল্প সেন্টার বা কাস্টমার সাপোর্ট সার্ভিস চালু রেখেছে। প্রার্থীরা যেকোনো টেলিটক নম্বর থেকে সরাসরি ১২১ নম্বরে কল করে কাস্টমার কেয়ার রিপ্রেজেন্টেটিভের সাথে সরাসরি কথা বলে তাৎক্ষণিক সমাধান পেতে পারেন।

এছাড়াও যদি আপনি ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তবে আপনার সমস্যার বিস্তারিত বিবরণ, অ্যাপ্লিকেন্টস কপি বা ট্রানজেকশন আইডির স্ক্রিনশট সংযুক্ত করে vas.query@teletalk.com.bd এই অফিশিয়াল ইমেইল ঠিকানায় মেইল করতে পারেন। ইমেইলের সাবজেক্ট লাইনে আপনার পদের নাম এবং সমস্যার ধরন সংক্ষেপে উল্লেখ করা উচিত। সাধারণত ২৪ থেকে ৪৮ কর্মঘণ্টার মধ্যে টেলিটক টিম আপনার ইমেইলের জবাব দিয়ে সমস্যাটি সমাধান করে দেবে। সরকারি চাকরির আবেদন প্রক্রিয়াকে সহজ ও হয়রানি মুক্ত করতেই এই কাস্টমার সাপোর্টটি সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে।

Read More:-Ansar VDP Unnayan Bank Job Circular 2026: আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক বিশাল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

BJSC পরীক্ষা পদ্ধতি ও চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়া

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের যেকোনো পদে চাকরি পাওয়া অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ, কারণ দেশজুড়ে হাজার হাজার যোগ্য প্রার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেন। কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং নিখুঁত পদ্ধতিতে যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য সাধারণত তিন বা চার স্তরের পরীক্ষা গ্রহণ করে থাকে। প্রথমত, আবেদনকারী প্রার্থীদের স্ক্রিনিং বা প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে একটি পূর্ণাঙ্গ লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। পদের ধরন ও গ্রেড অনুযায়ী এই লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস, বিষয়সমূহ এবং নম্বর বণ্টন ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে, যার বিস্তারিত বিবরণ নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ করা হয়।

দ্বিতীয়ত, যে সকল পদের জন্য কারিগরি বা বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হয়, যেমন কম্পিউটার অপারেটর, সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক, ড্রাইভার বা অফিস সহকারী, সে সকল পদের ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ব্যবহারিক বা প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হয়। ব্যবহারিক পরীক্ষায় প্রার্থীদের টাইপিং স্পিড, কম্পিউটার চালনা বা সংশ্লিষ্ট কাজের বাস্তব দক্ষতা কঠোরভাবে মূল্যায়ন করা হয়। তৃতীয় এবং চূড়ান্ত ধাপ হলো মৌখিক পরীক্ষা বা ভাইভা ভয়েস। লিখিত এবং ব্যবহারিক উভয় পরীক্ষায় যারা কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হবেন, শুধুমাত্র তাদেরকেই কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে ভাইভা পরীক্ষার জন্য ডাকা হবে। ভাইভা বোর্ডের পারফরম্যান্স, একাডেমিক রেকর্ড এবং আচরণ মূল্যায়নের পর চূড়ান্ত মেধা তালিকা বা নিয়োগের সুপারিশ তালিকা তৈরি করা হয়।

জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন ভাইভা পরীক্ষার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

মৌখিক বা ভাইভা পরীক্ষার দিনটি যেকোনো চাকরিপ্রার্থীর জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। এই দিনে প্রার্থীদের তাদের যোগ্যতার প্রমাণস্বরূপ সকল সার্টিফিকেটের মূল কপি বা অরিজিনাল ডকুমেন্ট সাথে নিয়ে বোর্ডে উপস্থিত হতে হবে। ভাইভা বোর্ড আপনার মূল কাগজপত্রের সাথে অনলাইনের তথ্যের মিল যাচাই করে দেখবে। মূল কপির পাশাপাশি প্রতিটি ডকুমেন্টের অন্তত এক সেট প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত ফটোকপি ভাইভা দপ্তরে জমা দিতে হবে।

ভাইভা পরীক্ষার দিন যে সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আবশ্যিকভাবে সাথে আনতে হবে তার মধ্যে রয়েছে অনলাইন আবেদনের প্রিন্ট করা কালার অ্যাপ্লিকেন্টস কপি, শিক্ষাগত যোগ্যতার সব স্তরের মূল সার্টিফিকেট ও নম্বরপত্র বা মার্কশিট, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদের স্পষ্ট কপি। এছাড়াও আপনার স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণস্বরূপ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র অথবা সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত চারিত্রিক ও নাগরিকত্ব সনদপত্র সাথে আনতে হবে। আপনি যদি কোনো কোটার অধীনে আবেদন করে থাকেন, তবে কোটার স্বপক্ষে উপযুক্ত প্রমাণপত্র, যেমন সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রতিবন্ধী সনদ বা বীর মুক্তিযোদ্ধার মূল ডিজিটাল সার্টিফিকেট ও গেজেট কপি অবশ্যই উপস্থাপন করতে হবে, অন্যথায় আপনার কোটা সুবিধা বাতিল বলে গণ্য হবে।

BJSC Admit Card (প্রবেশপত্র) ডাউনলোড করার সহজ নিয়ম

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন পরীক্ষার সুনির্দিষ্ট তারিখ, সময় এবং আসন বিন্যাস সম্পন্ন হওয়ার পর প্রার্থীদের প্রবেশপত্র বা এডমিট কার্ড ইস্যু করা হয়। প্রবেশপত্র প্রকাশের সাথে সাথেই আবেদন করার সময় প্রার্থীদের দেওয়া সচল মোবাইল নম্বরে টেলিটকের পক্ষ থেকে একটি অফিশিয়াল এসএমএস পাঠিয়ে ডাউনলোডের নির্দেশ দেওয়া হবে। তাই আপনার আবেদন ফরমের মোবাইল নম্বরটি সবসময় সচল রাখা জরুরি। এসএমএস পাওয়ার পর প্রার্থীরা কমিশনের অফিশিয়াল নিয়োগ পোর্টাল bjsccr.teletalk.com.bd এর মাধ্যমে তাদের এডমিট কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন।

এডমিট কার্ড ডাউনলোড করার জন্য প্রথমে টেলিটক পোর্টালে প্রবেশ করে এডমিট কার্ড নামক ট্যাবে ক্লিক করতে হবে। এরপর আপনার কাছে আপনার সংরক্ষিত User ID এবং Password জানতে চাওয়া হবে। নির্দিষ্ট বক্সে আপনার আইডি ও পাসওয়ার্ড সঠিকভাবে ইনপুট দিয়ে লগইন বাটনে ক্লিক করলেই আপনার প্রবেশপত্রটি স্ক্রিনে দৃশ্যমান হবে। প্রবেশপত্রটি পিডিএফ ফরম্যাটে ডাউনলোড করে অবশ্যই একটি ভালো মানের কালার প্রিন্ট করে নেবেন। এই প্রবেশপত্রে আপনার রোল নম্বর, পরীক্ষার কেন্দ্রের নাম, ঠিকানা, পরীক্ষার তারিখ এবং সময় স্পষ্টাক্ষরে লেখা থাকবে। পরীক্ষার হলে প্রবেশপত্রের প্রিন্ট কপি এবং কলম ছাড়া অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস নেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে।

BJSC Job Update Notice (পরীক্ষার তারিখ ও ফলাফল)

চাকরির অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ হওয়ার পর থেকে প্রার্থীদের অত্যন্ত ধৈর্য ও সতর্কতার সাথে নিয়মিত পরীক্ষার আপডেট নোটিশগুলোর দিকে নজর রাখতে হবে। অনেক সময় অনিবার্য কারণবশত পরীক্ষার সময়সূচী পরিবর্তন হতে পারে বা নতুন আসন বিন্যাস প্রকাশিত হতে পারে। এই সমস্ত জরুরি নোটিশ, পরীক্ষার ফলাফল এবং চূড়ান্ত নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জানতে আপনাকে নিয়মিত অফিশিয়াল সোর্সগুলোর সাথে যুক্ত থাকতে হবে। কোনো ফেক বা ভুয়া ওয়েবসাইটের তথ্যে বিভ্রান্ত না হয়ে সবসময় জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের মূল ওয়েবসাইট ভিজিট করার অভ্যাস করা উচিত।

আপনি নিয়মিত বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট bjsc.gov.bd এর নোটিশ বোর্ড চেক করতে পারেন। এছাড়াও টেলিটকের পোর্টাল bjsccr.teletalk.com.bd-তেও পরীক্ষার আপডেট প্রকাশ করা হয়। চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফল বা বিজেএসসি জব রেজাল্ট ২০২৬ এই ওয়েবসাইটগুলোতেই পিডিএফ আকারে আপলোড করা হবে, যেখান থেকে আপনি আপনার রোল নম্বর দিয়ে ফলাফল সার্চ করতে পারবেন। সরকারি চাকুরির এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় নিজেকে সবসময় আপ-টু-ডেট রাখা সফলতার একটি অন্যতম অংশ।

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয় যোগাযোগ তথ্য

বিজ্ঞপ্তি সংক্রান্ত যেকোনো দাপ্তরিক জিজ্ঞাসা, তথ্যের স্পষ্টীকরণ বা বিশেষ যোগাযোগের জন্য প্রার্থীরা সরাসরি বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের অফিসিয়াল ঠিকানা বা হেল্পলাইনে যোগাযোগ করতে পারেন। যেকোনো প্রকার লিখিত যোগাযোগ বা সরাসরি তথ্য জানার জন্য নিচের অফিশিয়াল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর ব্যবহার করা যাবে।

কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা হলো: বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়, ১৫, college রোড, ঢাকা-১০০০। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে বা অফিস চলাকালীন দাপ্তরিক যোগাযোগের জন্য তাদের অফিশিয়াল ফোন নম্বর ০২-৪১০৫৩৩০১ এ কল করা যেতে পারে। এছাড়া যেকোনো দাপ্তরিক ইমেইল আদান-প্রদানের জন্য তাদের নির্দিষ্ট ইমেইল আইডি secretary10bjsc@gmail.com ব্যবহার করতে পারবেন। প্রার্থীরা চাইলে সরাসরি অফিসে গিয়েও তাদের জিজ্ঞাসা বা নোটিশ বোর্ডের মূল কপি সংগ্রহ করতে পারেন।

 ক্যারিয়ার পরামর্শ

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ (BJSC Job Circular 2026) বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ বেকার ও চাকরিপ্রার্থী যুবকদের জন্য একটি স্বপ্নের কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে এসেছে। ১২টি ক্যাটাগরিতে মোট ৯৭৩টি শূন্য পদের এই বিশাল নিয়োগে অংশ নেওয়া আপনার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। আপনি যদি নিজেকে এই পদগুলোর জন্য যোগ্য এবং আগ্রহী মনে করে থাকেন, তবে আবেদনের শেষ তারিখের জন্য একদম অপেক্ষা না করে আজই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে অনলাইনে আপনার আবেদনটি সম্পূর্ণ করে ফেলুন। সাধারণত শেষ দিনগুলোতে সার্ভারে অতিরিক্ত ট্রাফিকের কারণে টেকনিক্যাল সমস্যা বা সাবমিট হতে দেরি হতে পারে, তাই আগেভাগেই টেলিটক সিমের মাধ্যমে ফি প্রদান করে আপনার প্রার্থীতা নিশ্চিত করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

আবেদন করার পর থেকেই পরীক্ষার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করে পড়াশোনা শুরু করে দিন। বিগত বছরের বিজেএসসি নন-ক্যাডার পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক সমাধান করলে আপনি পরীক্ষার প্রশ্নপদ্ধতি সম্পর্কে একটি চমৎকার ধারণা পেয়ে যাবেন। এই গুরুত্বপূর্ণ চাকুরির সার্কুলারটি আপনার বন্ধুদের সাথে এবং বিভিন্ন চাকরিপ্রার্থী ফেসবুক গ্রুপে শেয়ার করতে ভুলবেন না, যাতে অন্যরাও এই চমৎকার সুযোগটি সম্পর্কে জানতে পারে এবং উপকৃত হয়। আপনার পরীক্ষা এবং সরকারি চাকরি পাওয়ার এই সুন্দর যাত্রায় আমাদের পুরো টিমের পক্ষ থেকে রইল অনেক অনেক শুভকামনা ও আন্তরিক অভিনন্দন!

 FAQs

১. BJSC Job Circular 2026-এর আবেদনের শেষ সময় ঠিক কবে?
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের এই নিয়োগের অধীনে দুটি ভিন্ন নোটিশ রয়েছে। প্রথম নোটিশ বা বিজ্ঞপ্তির আবেদনের শেষ তারিখ হলো ০৪ জুন ২০২৬ এবং দ্বিতীয় নোটিশ বা বিজ্ঞপ্তির আবেদনের শেষ তারিখ হলো ১০ জুন ২০২৬ তারিখ বিকাল ৫:০০ টা পর্যন্ত। তাই ডেট পার হওয়ার আগেই আবেদন শেষ করুন।

২. আবেদনের জন্য টেলিটক ছাড়া অন্য কোনো সিমে ফি দেওয়া যাবে কি?
না, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের অনলাইন আবেদন ফি শুধুমাত্র এবং আবশ্যিকভাবে টেলিটক প্রিপেইড সিমের মেসেজ অপশন ব্যবহার করেই জমা দিতে হবে। বিকাশ, রকেট, নগদ বা অন্য কোনো মোবাইল ব্যাংকিং বা অন্য অপারেটরের সিমের মাধ্যমে এই ফি পরিশোধ করার কোনো সুযোগ নেই।

৩. ভুল তথ্য দিয়ে ফরম সাবমিট করলে তা সংশোধন করার উপায় কী?
যদি আপনি অনলাইনে ফরম সাবমিট করে ফেলেন কিন্তু এখনো টেলিটক সিমের মাধ্যমে আবেদন ফি জমা না দিয়ে থাকেন, তবে উক্ত ভুল ফরমটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে। আপনি পুনরায় নতুন করে সঠিক তথ্য দিয়ে আরেকটি অনলাইন ফরম পূরণ করে নতুন ইউজার আইডি দিয়ে ফি জমা দিতে পারবেন। তবে একবার ফি জমা দিয়ে দিলে আর কোনো তথ্য সংশোধন করা সম্ভব নয়।

৪. বিবাহিত মহিলা প্রার্থীরা স্থায়ী ঠিকানায় স্বামী নাকি বাবার বাড়ির ঠিকানা দেবেন?
বাংলাদেশের সরকারি চাকুরির বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী বিবাহিত মহিলা প্রার্থীরা তাদের স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে স্বামীর স্থায়ী ঠিকানা অথবা পিতার স্থায়ী ঠিকানা—যেকোনো একটি ব্যবহার করতে পারবেন। তবে আপনি যে ঠিকানাই ব্যবহার করুন না কেন, চূড়ান্ত ভাইভা পরীক্ষার সময় সেই এলাকার উপযুক্ত স্থানীয় চেয়ারম্যান বা মেয়রের নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বাসিন্দা সনদ প্রদর্শন করতে হবে।