এইচএসসি পরীক্ষা প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আর এই পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য আবশ্যিক বিষয় ‘বাংলা প্রথম পত্র’–এ ভালো নম্বর পাওয়া অত্যন্ত জরুরি। বাংলা প্রথম পত্রে ভালো করার মূল চাবিকাঠি হলো সৃজনশীল প্রশ্নে (Creative Questions) চমৎকার দক্ষতা অর্জন করা। বোর্ড পরীক্ষার নিয়ম অনুযায়ী সঠিক কাঠামো মেনে উত্তর লিখতে না পারলে আশানুরূপ নম্বর পাওয়া যায় না।
শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির সুবিধার্থে এই কন্টেন্টে HSC বাংলা প্রথম পত্রের সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ গল্প ও কবিতা থেকে ১০টি সম্পূর্ণ অনন্য ও এক্সক্লুসিভ সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর তৈরি করে দেওয়া হলো। একজন অভিজ্ঞ শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে বোর্ড পরীক্ষার স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী এই উত্তরগুলো সাজানো হয়েছে, যা তোমাদের চূড়ান্ত পরীক্ষার প্রস্তুতিকে এক ধাপ এগিয়ে দেবে।
১. ‘বিলাসী’ গল্প অবলম্বনে সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
উদ্দীপক:
সুমন ও রাহেলা ভিন্ন ধর্মের হওয়া সত্ত্বেও একে অপরকে ভালোবেসে বিয়ে করে। সমাজের তথাকথিত প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এই বিয়ে মেনে নিতে পারেনি। তারা সুমনের পরিবারকে সমাজচ্যুত করার হুমকি দেয় এবং রাহেলাকে গ্রাম ছাড়া করার চক্রান্ত করে। কিন্তু সমস্ত বাধা-বিপত্তি ও সামাজিক লাঞ্ছনাকে উপেক্ষা করে রাহেলা সুমনের পাশে অটল থাকে। সুমনের কঠিন অসুখের সময় রাহেলা নিজের দিন-রাত এক করে সেবা দিয়ে তাকে সুস্থ করে তোলে। সমাজ তাদের দূর করে দিলেও তাদের ভালোবাসার বন্ধন ছিন্ন করতে পারেনি।
(ক) ‘বিলাসী’ গল্পটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল?
উত্তর: ‘বিলাসী’ গল্পটি প্রথম ‘ভারতী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।
(খ) “মশায় কামড়ানি সহ্য হয়, কিন্তু ও কামড়ানি তো সহ্য হয় না”— উক্তিটি বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: উক্তিটি দ্বারা সাপুড়েদের পেশাগত জীবনের চরম ঝুঁকি এবং সাপের বিষের তীব্র যন্ত্রণাকে বোঝানো হয়েছে।
‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয় সাপুড়ে সেজে সাপ ধরতে গিয়ে যখন সাপের কামড় খায়, তখন তার বিষের তীব্রতা বোঝাতে এই উক্তিটি করা হয়েছে। মশার কামড় মানুষ সহ্য করতে পারে, কারণ তা সাময়িক ও মৃদু। কিন্তু বিষাক্ত সাপের কামড়ের যে তীব্র জ্বালা ও জীবননাশী যন্ত্রণা, তা সাধারণ কোনো কষ্টের সাথে তুলনীয় নয়। মানুষের পক্ষে সেই মরণকামড়ের যন্ত্রণা সহ্য করা অসম্ভব—এটাই এখানে প্রকাশ পেয়েছে।
(গ) উদ্দীপকের রাহেলার মানসিকতা ‘বিলাসী’ গল্পের মূল চরিত্রের কোন দিকটিকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: উদ্দীপকের রাহেলার মানসিকতা ‘বিলাসী’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিলাসীর অকৃত্রিম ভালোবাসা, আত্মত্যাগ ও সেবাপরায়ণতার দিকটিকে নির্দেশ করে。
‘বিলাসী’ গল্পে আমরা দেখি, সমাজের জাত-পাতের কঠোর নিয়ম ভেঙে বিলাসী মৃত্যুঞ্জয়কে আপন করে নিয়েছিল। মৃত্যুঞ্জয়ের কঠিন অসুস্থতায় বিলাসী নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, রাত জেগে সেবা করে তাকে সুস্থ করে তোলে। সমাজ তাদের এই সম্পর্ককে মেনে নেয়নি এবং তাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে। তাসত্ত্বেও বিলাসী মৃত্যুঞ্জয়ের প্রতি তার ভালোবাসায় অবিচল ছিল।
উদ্দীপকের রাহেলাও ভিন্ন ধর্মের সুমনকে বিয়ে করায় সামাজিক লাঞ্ছনা ও সমাজচ্যুতির শিকার হয়। কিন্তু সমস্ত সামাজিক বাধা উপেক্ষা করে সে সুমনের পাশে অটল থাকে এবং সুমনকে কঠিন অসুখের সময় দিন-রাত এক করে সেবা দিয়ে সুস্থ করে তোলে। রাহেলা ও বিলাসীর এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া এবং স্বামীর প্রতি একনিষ্ঠ সেবা ও ভালোবাসা প্রদর্শন—উভয় ক্ষেত্রেই এক গভীর স্বাদৃশ্য বজায় রয়েছে। তাই বলা যায়, রাহেলার মানসিকতা বিলাসীর চরিত্রের আদর্শেরই প্রতিফলন।
(ঘ) “উদ্দীপকটি ‘বিলাসী’ গল্পের সামগ্রিক ভাবার্থকে ধারণ করে না, বরং একটি বিশেষ দিককে ফুটিয়ে তোলে”— মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: উদ্দীপকটি ‘বিলাসী’ গল্পের সামগ্রিক ভাবার্থকে ধারণ না করে কেবল প্রেম ও সেবাপরায়ণতার বিশেষ দিকটিকে ফুটিয়ে তোলে—মন্তব্যটি যথার্থ।
‘বিলাসী’ গল্পে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তৎকালীন রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের জাত-পাত প্রথা, কুসংস্কার, নির্মমতা এবং অনুদার মানসিকতার চিত্র তুলে ধরেছেন। গল্পে যেমন বিলাসীর মহান প্রেম ও আত্মত্যাগ রয়েছে, তেমনি সমাজপতিদের নিষ্ঠুরতা, মৃতঞ্জয়ের সম্পত্তি দখলের জন্য খুড়ার চক্রান্ত এবং সাপুড়ে জীবনের বাস্তব চিত্র ও সাপুড়ে সমাজের জীবনযাত্রার বিশদ বিবরণ রয়েছে। শেষ পর্যন্ত বিলাসীর আত্মহত্যার মধ্য দিয়ে গল্পের এক করুণ ও ট্রাজিক সমাপ্তি ঘটে।
অন্যদিকে, উদ্দীপকে কেবল সুমন ও রাহেলার ভিন্ন ধর্মের প্রেমের কারণে সামাজিক বাধা এবং রাহেলার একনিষ্ঠ সেবার মাধ্যমে সুমনকে সুস্থ করে তোলার বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এখানে প্রেমের জয় এবং সেবার দিকটি প্রাধান্য পেলেও ‘বিলাসী’ গল্পের মতো সাপুড়ে জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা, গ্রামীণ রাজনীতির কুৎসিত রূপ কিংবা বিলাসীর করুণ আত্মাহুতির মতো সামগ্রিক ও বহুমাত্রিক সামাজিক প্রেক্ষাপট অনুপস্থিত।
সুতরাং, উদ্দীপকটি ‘বিলাসী’ গল্পের মূল সুর অর্থাৎ প্রেম ও সেবাপরায়ণতার দিকটি ধারণ করলেও, গল্পের সামগ্রিক সমাজ-বাস্তবতা ও ট্র্যাজেডিকে পুরোপুরি প্রকাশ করতে পারেনি। তাই উদ্দীপকটি গল্পের আংশিক ভাবের ধারক মাত্র।
২. ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্প অবলম্বনে সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
উদ্দীপক:
দরিদ্র কৃষক রহমত আলী আজীবন সমাজের উচ্চবিত্তদের জমিতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করেছে। তার মৃত্যুর পর তার একমাত্র ছেলে করিম চায় বাবার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে যেন গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। কিন্তু গ্রামের মাতব্বররা বাধা দিয়ে বলে, “তোরা ছোটজাত, তোদের জন্য আলাদা জায়গা নির্দিষ্ট আছে, এখানে তোদের দাফন হবে না।” করিম অনেক অনুনয়-বিনয় করলেও মাতব্বরদের মন গলেনি। শেষ পর্যন্ত নিরুপায় করিম গ্রামের বাইরে এক পরিত্যক্ত জায়গায় তার বাবাকে দাফন করে অশ্রুসজল চোখে বিদায় জানায়।
(ক) অভাগীর ছেলের নাম কী?
উত্তর: অভাগীর ছেলের নাম কাঙালী।
(খ) অভাগী কেন মুখুজ্জে বাড়ির বামুন-মায়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া দেখতে গিয়েছিল?
উত্তর: অভাগী ধর্মীয় বিশ্বাস এবং স্বর্গপ্রাপ্তির ব্যাকুল আকাঙ্ক্ষা থেকে মুখুজ্জে বাড়ির বামুন-মায়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া দেখতে গিয়েছিল।
তৎকালীন হিন্দু সমাজের বিশ্বাস অনুযায়ী, সৎ ও পুণ্যবতী নারীর মৃত্যুর পর ধুমধাম করে চন্দন-ঘি দিয়ে দাহ করলে এবং পুত্রের হাতের আগুন পেলে তিনি সরাসরি স্বর্গে গমন করেন। দরিদ্র ও নিগৃহীত অভাগী নিজে আজীবন দুঃখ কষ্ট ভোগ করেছে। সে দেখতে চেয়েছিল কীভাবে একজন পুণ্যবতী নারী স্বর্গে যান। সেই সৎকারের জাঁকজমক ও ধোঁয়া দেখে নিজের মনের অবদমিত স্বর্গলাভের সুপ্ত ইচ্ছাকে তৃপ্ত করতেই সে সেখানে ছুটে গিয়েছিল。
(গ) উদ্দীপকের করিমের অসহায়ত্ব ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পের কোন চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: উদ্দীপকের করিমের অসহায়ত্ব ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পের মূল চরিত্র কাঙালীর অসহায়ত্বের সঙ্গে গভীরভাব সাদৃশ্যপূর্ণ।
‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পে মায়ের মৃত্যুর পর কাঙালী তার মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণের জন্য আকুল হয়ে ওঠে। তার মায়ের ইচ্ছা ছিল মৃত্যুর পর যেন তাকে চন্দন-ঘি দিয়ে পোড়ানো হয় এবং কাঙালী যেন মুখে আগুন দেয়। কিন্তু চরম দারিদ্র্য ও সমাজের নিচু জাত হওয়ার কারণে কাঙালী কাঠ সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়। এমনকি জমিদারের কর্মচারীদের পায়ে ধরে এবং মাতব্বরদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও সে কেবল লাঞ্ছনা ও ধিক্কার পায়। শেষ পর্যন্ত মায়ের মৃতদেহ পোড়াতে না পেরে তাকে নদীর চরে মাটি দিতে হয়।
উদ্দীপকের করিমও একজন দরিদ্র ও নিচু শ্রেণীর সন্তান। তার বাবার মৃত্যুর পর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করতে গেলে সমাজের প্রভাবশালী মাতব্বররা জাত-ভেদের অজুহাতে তাকে বাধা দেয়। করিমের সমস্ত অনুনয়-বিনয় ধুলিসাৎ হয়ে যায় এবং সে চরম অসহায় বোধ করে। কাঙালী যেমন সামাজিক নিষ্ঠুরতা ও শ্রেণী বৈষম্যের কারণে মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে পারেনি, করিমও ঠিক একইভাবে বাবার দাফনের ক্ষেত্রে সামাজিক দেয়ালের সম্মুখীন হয়েছে। ফলে করিমের এই অসহায়ত্ব সরাসরি কাঙালীর দুঃখগাथाকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
(ঘ) “উদ্দীপক এবং ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্প উভয়ই সমাজ ব্যবস্থার নিষ্ঠুর শ্রেণী বৈষম্য ও কুসংস্কারের নগ্ন রূপ।”— মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।
উত্তর: “উদ্দীপক এবং ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্প উভয়ই সমাজ ব্যবস্থার নিষ্ঠুর শ্রেণী বৈষম্য ও কুসংস্কারের নগ্ন রূপ।”— মন্তব্যটি শতভাগ সত্য ও যৌক্তিক।
‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পে সামন্তবাদী সমাজ ব্যবস্থার জাত-পাত প্রথা এবং ধনী-দরিদ্রের মধ্যকার আকাশচুম্বী ব্যবধানকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মুখুজ্জে বাড়ির বামুন-মায়ের মৃত্যুর সময় যে জাঁকজমক ও সম্মান প্রদর্শন করা হয়, তার বিপরীতে অভাগীর মৃত্যুর পর তার কাফন বা কাঠের টুকরো জোগাড় করাও অসম্ভব হয়ে পড়ে। উঁচু জাতের মানুষেরা নিচু জাতের কাঙালীকে মানুষ হিসেবে গণ্য না করে চরম অপমান করে। ধর্মের দোহাই দিয়ে এবং কুসংস্কারকে পুঁজি করে দরিদ্র মানুষের আবেগ ও অধিকারকে পদদলিত করা হয়েছে এই গল্পে।
উদ্দীপতেও এই একই নির্মম বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটেছে। রহমত আলী আজীবন সেবা করলেও মৃত্যুর পর কেবল ‘ছোটজাত’ হওয়ার অপরাধে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে স্থান দেওয়া হয় না। গ্রামের মাতব্বররা ক্ষমতার দাপটে এবং ধর্মীয় গোঁড়ামির অজুহাতে করিমের মানবিক দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে। এখানেও ফুটে উঠেছে কীভাবে সমাজ মানুষের জন্ম ও জাতকে কেন্দ্র করে মানুষের মৃত্যুর পরও বৈষম্য তৈরি করে।
উপসংহারে বলা যায়, গল্প এবং উদ্দীপক—উভয় ক্ষেত্রেই মৃত মানুষের শেষ ইচ্ছা শোধের চেয়ে সমাজের তৈরি করা জাত-প্রথা, কুসংস্কার এবং শ্রেণীভেদ বড় হয়ে উঠেছে। শোষক শ্রেণীর এই অমানবিক ও নিষ্ঠুর দৃষ্টিভঙ্গির নিখুঁত চিত্রায়ণের কারণেই উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
৩. ‘দেনাপাওনা’ গল্প অবলম্বনে সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
উদ্দীপক:
মিতার বাবা একজন সরকারি কর্মচারী। অনেক শখ করে একমাত্র মেয়ের বিয়ে ঠিক করেছেন এক ধনী ব্যবসায়ীর ছেলের সাথে। বিয়ের সময় বরের বাবার দাবি অনুযায়ী মোটা অঙ্কের যৌতুক এবং গাড়ি দেওয়ার কথা পাকা হয়। কিন্তু বিয়ের ঠিক আগ মুহূর্তে মিতার বাবা প্রতিশ্রুত টাকার সবটা জোগাড় করতে পারেননি। বরের বাবা বিয়ে ভাঙার হুমকি দিলে মিতার বাবা তার পায়ের ওপর পড়ে যান এবং বাকি টাকা বিয়ের পর দেওয়ার অনুরোধ করেন। বিয়ে সম্পন্ন হলেও শ্বশুরবাড়িতে পা রাখামাত্রই মিতাকে টাকার জন্য মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়。
(ক) ‘দেনাপাওনা’ গল্পের লেখক কে?
উত্তর: ‘দেনাপাওনা’ গল্পের লেখক হলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর。
(خ) রামসুন্দর কেন তার বসতবাড়ি বিক্রির চেষ্টা করেছিলেন?
উত্তর: রামসুন্দর তার মেয়ে নিরুপমার শ্বশুরবাড়ির দাবি করা যৌতুকের বকেয়া টাকা পরিশোধের জন্য তার একমাত্র বসতবাড়ি বিক্রির চেষ্টা করেছিলেন।
মেয়ের বিয়ের সময় রামসুন্দর রায় যৌতুকের পুরো টাকা পরিশোধ করতে পারেননি। এর ফলে নিরুপমার শ্বশুরবাড়িতে তার ওপর চরম নির্যাতন ও অবহেলা নেমে আসে। মেয়ের এই কষ্ট রামসুন্দরের সহ্য হচ্ছিল না। তিনি যেকোনো মূল্যে টাকা জোগাড় করে মেয়ের সম্মান রক্ষা করতে চেয়েছিলেন। তাই নিজের শেষ সম্বল বসতবাড়িটি বিক্রি করে হলেও বকেয়া তিন হাজার টাকা পরিশোধের আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন।
(গ) উদ্দীপকের মিতার শ্বশুরবাড়ির আচরণ ‘দেনাপাওনা’ গল্পের কোন সামাজিক ব্যাধিকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: উদ্দীপকের মিতার শ্বশুরবাড়ির আচরণ ‘দেনাপাওনা’ গল্পের মূল উপজীব্য ‘যৌতুক প্রথা’ নামক মারাত্মক ও কুৎসিত সামাজিক ব্যাধিকে নির্দেশ করে।
‘দেনাপাওনা’ গল্পে দেখা যায়, নিরুপমার বিয়ের সময় তার পিতা রামসুন্দর রায় যৌতুকের পুরো টাকা দিতে না পারায় নিরুর শ্বশুরবাড়ির লোকেরা, বিশেষ করে তার শাশুড়ি ও শ্বশুর, নিরুর ওপর অমানুষিক মানসিক নির্যাতন শুরু করে। তাকে অপয়া ও দরিদ্র ঘরের মেয়ে বলে প্রতিনিয়ত কটূক্তি করা হয়। রামসুন্দর যখনই মেয়ের সাথে দেখা করতে যেতেন, তাকে অপমান করে তাড়িয়ে দেওয়া হতো। যৌতুকের এই লোভ ও নিষ্ঠুরতা নিরুপমাকে তিলে তিলে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়।
উদ্দীপকের মিতার ক্ষেত্রেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। মিতার বাবা বিয়ের সময়ে যৌতুকের পুরো টাকা দিতে না পারায় বরের বাবা চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বিয়ের পর মিতা শ্বশুরবাড়িতে যাওয়া মাত্রই বকেয়া টাকার জন্য তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়। এই দুই ঘটনাই প্রমাণ করে যে, সমাজে নারীর নিজস্ব যোগ্যতার চেয়ে তার বাবার দেওয়া টাকার অঙ্ককে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সুতরাং, মিতার শ্বশুরবাড়ির এই আচরণ ‘দেনাপাওনা’ গল্পের যৌতুক প্রথার নির্মম বাস্তবতারই হুবহু প্রতিফলন।
(ঘ) “মিতার বাবার অসহায়ত্ব যেন ‘দেনাপাওনা’ গল্পের রামসুন্দরের চিরন্তন কান্নারই প্রতিধ্বনি।”— মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।
উত্তর: “মিতার বাবার অসহায়ত্ব যেন ‘দেনাপাওনা’ গল্পের রামসুন্দরের চিরন্তন কান্নারই প্রতিধ্বনি”— মন্তব্যটি গভীর জীবনসত্য এবং তৎকালীন ও বর্তমান সমাজের যৌতুক প্রথার প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত যথার্থ।
‘দেনাপাওনা’ গল্পে রামসুন্দর একজন স্নেহময় পিতা। মেয়ের সুখের জন্য তিনি নিজের সবকিছু বিসর্জন দিতে প্রস্তুত ছিলেন। বকেয়া যৌতুকের টাকার জন্য বেহাই বাড়ির অপমান, সুদের ওপর ঋণ নেওয়া, নিজের বসতবাড়ি বিক্রির চেষ্টা এবং শেষ পর্যন্ত গহনা বিক্রি করে টাকা এনেও মেয়ের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়া—সব মিলিয়ে রামসুন্দরের জীবন ছিল এক চরম হাহাকারের ইতিহাস। মেয়ের শ্বশুরবাড়ির দরজায় এসে রামসুন্দরের অবমাননা ও অশ্রু বিসর্জন পিতৃত্বের চরম অসহায়ত্বকে ফুটিয়ে তোলে।
উদ্দীপকের মিতার বাবাও একজন সাধারণ মধ্যবিত্ত পিতা। তিনি মেয়ের বিয়ের সম্বন্ধ ঠিক করে বরের বাবার লোভের শিকার হন। বিয়ের আসরে বরের বাবার পায়ে ধরে আকুতি-মিনতি করা এবং বিয়ের পরেও মেয়ের ওপর নির্যাতনের খবর শুনেও টাকার অভাবে কিছু করতে না পারা মিতার বাবার চরম লাঞ্ছনা ও অসহায়ত্বকে প্রকাশ করে। রামসুন্দর যেভাবে মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে প্রতিনিয়ত চোখের জল ফেলেছেন এবং সমাজে মাথা নিচু করে বেঁচে ছিলেন, মিতার বাবাও ঠিক একইভাবে সমাজের যৌতুকলোভী দানবদের সামনে বুকফাটা আর্তনাদ করছেন।
অতএব, দুই যুগের দুই পিতার এই আকুতি ও চোখের জল একই সুতোয় গাঁথা। যৌতুক প্রথার যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে বাবাদের এই যে অসহায় আত্মসমর্পণ, তা রামসুন্দরের কান্নার মতোই চিরন্তন ও বৈশ্বিক। তাই উদ্দীপকের বক্তব্যটি দেনাপাওনা গল্পের মূল সুরের সাথে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ।
Read More:-SSC Chemistry Book PDF Download 2026 – Class 9-10 Guide
৪. ‘বিদ্রোহী’ কবিতা অবলম্বনে সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
উদ্দীপক:
১৯৭১ সালে বাংলার সাধারণ মানুষ যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অন্যায়, শোষণ ও অত্যাচারের শিকার হচ্ছিল, তখন একদল তরুণ অস্ত্র হাতে তুলে নেয়। তারা কোনো আধুনিক অস্ত্রের ভয় করেনি, জীবন দেওয়ার পরোয়া করেনি। হানাদারদের সমস্ত জেল-জুলুম ও নির্যাতনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তারা বাংলার বুকে স্বাধীনতার সূর্য ছিনিয়ে আনে। এই তরুণরা ছিল শোষকের কাছে যমদূত আর শোষিতের কাছে পরম আশ্রয়। অন্যায়কে উপড়ে ফেলে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠাই ছিল তাদের একমাত্র লক্ষ্য。
(ক) ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
উত্তর: ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘অগ্নি-বীণা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
(খ) “আমি পরশুরামের কঠোর কুঠার”— কবি কেন নিজেকে পরশুরামের কুঠার বলেছেন?
উত্তর: সমাজে বিরাজমান অন্যায়, অত্যাচারী শাসক এবং শোষকদের সমূলে বিনাশ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করতেই কবি নিজেকে ‘পরশুরামের কঠোর কুঠার’ বলে অভিহিত করেছেন।
পৌরাণিক চরিত্র পরশুরাম ক্ষত্রিয়দের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কুঠার হাতে যুদ্ধ করেছিলেন এবং পৃথিবীকে অত্যাচারী ক্ষত্রিয়মুক্ত করেছিলেন। ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলামও সমাজের সকল অত্যাচারী, শোষক ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক আপসহীন যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। পরশুরামের কুঠারের মতোই কবি তার কাব্য ও সত্তা দিয়ে পৃথিবীর সমস্ত অত্যাচারী শক্তিকে ধ্বংস করে বিশ্বকে শান্ত ও শোষণমুক্ত করতে চান।
(গ) উদ্দীপকের তরুণদের মানসিকতা ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কবির চরিত্রের কোন দিকটি উন্মোচন করে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: উদ্দীপকের তরুণদের মানসিকতা ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কবির অপরাজেয় চেতনা, অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ এবং চির-বিদ্রোহী সত্তার দিকটিকে উন্মোচন করে।
‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি নিজেকে এক চরম বিদ্রোহী রূপী বীর হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যিনি কোনো শক্তির কাছে মাথা নত করেন না। কবি শোষকের ভয়াল থাবাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করতে চান। তিনি যেমন একদিকে ধ্বংসাত্মক, অন্যদিকে সত্য ও সুন্দরের পূজারী। কবির এই বিদ্রোহ কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং মানবতাকে শৃঙ্খলমুক্ত করার জন্য।
উদ্দীপকের ১৯৭১ সালের মুক্তিকামী তরুণদের মধ্যেও এই একই বিদ্রোহী চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। তারা পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছে। সমস্ত ভয়-ভীতি ও মৃত্যুকে উপেক্ষা করে তারা শোষকের দুর্গ ভেঙে চুরমার করেছে。 কবির মতোই এই তরুণরা অত্যাচারীর কাছে ছিল ত্রাস এবং শোষিত বাঙালির কাছে ছিল মুক্তির দূত। সুতরাং, উদ্দীপকের তরুণদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর এই মানসিকতা ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কবির বৈপ্লবিক ও আপসহীন চরিত্রের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়।
(ঘ) “উদ্দীপকের তরুণদের লক্ষ্য এবং ‘বিদ্রোহী’ কবিতার মূল সুর—উভয়ই নিপীড়িত মানবতার মুক্তি।”— বিশ্লেষণ করো。
উত্তর: “উদ্দীপকের তরুণদের লক্ষ্য এবং ‘বিদ্রোহী’ কবিতার মূল সুর—উভয়ই নিপীড়িত মানবতার মুক্তি।”— মন্তব্যটি অত্যন্ত গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ।
কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি কেবল ধ্বংসের গান নয়, এটি মূলত সৃষ্টির এবং মুক্তির গান। কবিতার শেষাংশে কবি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, তার এই বিদ্রোহ ততক্ষণ পর্যন্ত শান্ত হবে না, যতক্ষণ না উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে-বাতাসে ধ্বনিত হওয়া বন্ধ হবে এবং অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণभूमि থেকে বিদায় নেবে। অর্থাৎ, কবির সমস্ত বিদ্রোহের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো সমাজে সাম্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করা এবং শোষিত মানুষকে মুক্তি দেওয়া।
উদ্দীপকের প্রেক্ষাপটও একই লক্ষ্যের দিকে ধাবিত। ১৯৭১ সালের তরুণরা শখ করে অস্ত্র তুলে নেয়নি। পাকিস্তানি হানাদারদের নির্মম নির্যাতন থেকে বাংলার নিপীড়িত ও মজলুম মানুষকে রক্ষা করাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। তারা নিজেদের জীবন বাজি রেখেছিল যেন দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে, শান্তিতে বাঁচতে পারে। অত্যাচারীকে ধ্বংস করা এবং শোষিতের মুখে হাসি ফোটানোই ছিল তাদের যুদ্ধের মূল প্রেরণা।
পরিশেষে বলা যায়, কবি নজরুলের লেখনীর বিদ্রোহ আর উদ্দীপকের তরুণদের অস্ত্রের বিদ্রোহ—দুইয়েরই গন্তব্য এক ও অভিন্ন। উভয়েরই পরম লক্ষ্য অত্যাচারীর পতন ঘটিয়ে মানবতাকে শৃঙ্খলমুক্ত করা। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘বিদ্রোহী’ কবিতার মূল মানবতাবাদী ও সাম্যবাদী সুরকে সফলভাবে ধারণ করেছে।
৫. ‘প্রতিদান’ কবিতা অবলম্বনে সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
উদ্দীপক:
রাশেদ সাহেবকে তার প্রতিবেশী আসাদ খাঁ মিথ্যা মামলা দিয়ে চরম হয়রানি করে এবং তার পৈতৃক সম্পত্তির কিছু অংশ জোরপূর্বক দখল করে নেয়। রাশেদ সাহেবের আত্মীয়-স্বজনরা তাকে প্রতিশোধ নেওয়ার পরামর্শ দিলেও তিনি শান্ত থাকেন। কিছুদিন পর আসাদ খাঁ এক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হলে তার পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ ছিল না। এই খবর পেয়ে রাশেদ সাহেব নিজে হাসপাতালে ছুটে যান, তার চিকিৎসার সমস্ত খরচ বহন করেন এবং নিজের রক্ত দিয়ে আসাদ খাঁর জীবন রক্ষা করেন। আসাদ খাঁ সুস্থ হয়ে নিজের ভুলের জন্য রাশেদ সাহেবের কাছে ক্ষমা চান。
(ক) ‘প্রতিদান’ কবিতাটির رচয়িতা কে?
উত্তর: ‘প্রতিদান’ কবিতাটির রচয়িতা হলেন পল্লীকবি জসীমউদ্দীন।
(খ) “কাঁটা পেয়ে আমি তায় করি দান ফুল”— উক্তিটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: উক্তিটি দ্বারা কবির ক্ষমাশীলতা, পরম পরোপকারী মানসিকতা এবং অপকারের বিপরীতে উপকার করার মহান দর্শনকে বোঝানো হয়েছে।
‘প্রতিদান’ কবিতায় কবি জসীমউদ্দীন সাম্য ও ভালোবাসার এক অনন্য বাণী প্রচার করেছেন। সমাজে অনেকে তাকে কষ্ট দিয়েছে, আঘাত করেছে (যাকে কবি ‘কাঁটা’র সাথে তুলনা করেছেন)। কিন্তু কবি সেই আঘাতের জবাবে প্রতি-আঘাত করেননি। বরং তিনি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং ভালোবাসার উপহার (ফুল) বিলিয়ে দিয়েছেন। শত্রুকেও আপন করে নেওয়ার এই যে মানসিকতা, তা-ই এখানে ব্যক্ত হয়েছে।
(গ) উদ্দীপকের রাশেদ সাহেবের চরিত্রটি ‘প্রতিদান’ কবিতার কোন চরণের ভাব প্রকাশ করে? আলোচনা করো।
উত্তর: উদ্দীপকের রাশেদ সাহেবের চরিত্রটি ‘প্রতিদান’ কবিতার “আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর” এবং “যে মোরে করিল পথের বিবাগী… আমি তার লাগি কাঁদি”— এই মহান চরণের ভাব প্রকাশ করে।
‘প্রতিদান’ কবিতায় কবি দেখিয়েছেন যে, তাকে যে ঘরছাড়া করেছে, কবি তার জন্যই ঘর বাঁধেন। যিনি তাকে কুৎসিত কথা বলেছেন, কবি তার জন্য সুন্দর বাণী রচনা করেন। অর্থাৎ, অনিষ্টকারীর ইষ্ট চিন্তা করাই কবির জীবনের মূল ব্রত। কবি শত্রুর ক্ষতি চান না, বরং তাকে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করতে চান।
উদ্দীপকের রাশেদ সাহেবের চরিত্রেও ঠিক এই গুণটি বিদ্যমান। প্রতিবেশী আসাদ খাঁ তাকে মিথ্যা মামলা ও জমি দখলের মাধ্যমে চরম ক্ষতি ও অপমান করেছে (তাকে পর করে দিয়েছে)। কিন্তু আসাদ খাঁ যখন বিপদে পড়েছে, রাশেদ সাহেব অতীত শত্রুতার কথা ভুলে গিয়ে মানবতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। নিজের রক্ত দিয়ে শত্রুর জীবন বাঁচিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, তিনি প্রতি-হিংসায় বিশ্বাসী নন, বরং ভালোবাসায় বিশ্বাসী। রাশেদ সাহেবের এই আচরণের মধ্য দিয়ে ‘প্রতিদান’ কবিতার অনিষ্টকারীর মঙ্গল কামনা করার মূল দর্শনটি চমৎকারভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
(ঘ) “রাশেদ সাহেবের মতো মানুষেরাই পারে সমাজ থেকে শত্রুতা দূর করে শান্তির সুবাতাস বইয়ে দিতে।”— কবিতার আলোকে মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো。
উত্তর: “রাশেদ সাহেবের মতো মানুষেরাই পারে সমাজ থেকে শত্রুতা দূর করে শান্তির সুবাতাস বইয়ে দিতে।”— মন্তব্যটি ‘প্রতিদান’ কবিতার মূল সুরের আলোকে সম্পূর্ণ যথার্থ এবং সমাজ জীবনে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
পৃথিবীতে হিংসা দিয়ে কখনো হিংসা দূর করা যায় না। আঘাতের বিপরীতে আঘাত করলে কেবল শত্রুতা ও অশান্তিই বাড়ে। কবি জসীমউদ্দীন তার ‘প্রতিদান’ কবিতায় এই শাশ্বত সত্যটি তুলে ধরেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, যে বুকে আঘাত করে, তাকে জড়িয়ে ধরে ভালোবাসলেই কেবল তার মনের ভেতরের পশুতত্বকে দূর করা সম্ভব। কবির এই ঔদার্য ও ক্ষমাশীলতাই পারে একটি সমাজকে সুন্দর ও শান্তিময় করতে।
উদ্দীপকের রাশেদ সাহেব যদি আসাদ খাঁর দুর্ঘটনার খবর শুনে আনন্দ পেতেন বা প্রতিশোধ নিতেন, তবে তাদের মধ্যকার শত্রুতা চিরকাল রয়ে যেত এবং সমাজ আরও কলুষিত হতো। কিন্তু রাশেদ সাহেব তার মহানুভবতা ও রক্তের বিনিময়ে আসাদ খাঁর জীবন বাঁচিয়ে তার মনের অন্ধকার দূর করেছেন। আসাদ খাঁ তার ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হয়েছে এবং তাদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের শত্রুতার অবসান ঘটেছে।
এর থেকে প্রমাণিত হয় যে, ক্ষমা ও ভালোবাসার শক্তি তরবারির চেয়েও শক্তিশালী। রাশেদ সাহেবের মতো পরোপকারী ও নিঃস্বার্থ মানুষেরাই সমাজে প্রকৃত রূপান্তর আনতে পারে। তারা নিজেদের উদারতা দিয়ে শত্রুর হৃদয় জয় করে সমাজকে হিংসামুক্ত ও শান্তিময় করে তোলে। তাই কবিতার মূল ভাবনার সাথে উদ্দীপকের এই মন্তব্যটি পুরোপুরি একাত্মতা ঘোষণা করে।
Read More:-SSC এর পর কোন বিভাগ নিলে ভবিষ্যৎ ভালো? সম্পূর্ণ ক্যারিয়ার গাইডলাইন ২০২৬
৬. ‘মানুষ’ কবিতা অবলম্বনে সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
উদ্দীপক:
তীব্র শীতে কাঁপতে কাঁপতে এক বৃদ্ধ ভিক্ষুক এক ধনী ব্যক্তির আলিশান বাড়ির দরজায় এসে দাঁড়াল। বৃদ্ধটি বিনীতভাবে বলল, “বাবা, দুদিন ধরে কিচ্ছু খাইনি, তীব্র শীতে মরে যাচ্ছি, আমাকে একটু খাবার আর একটা পুরানো কম্বল দিন।” বাড়ির মালিক ক্ষুব্ধ হয়ে চিৎকার করে উঠলেন, “সকাল সকাল দূর হ এখান থেকে! যতসব অলস লোকের দল, কাজের বেলা নেই, ভিক্ষা করতে এসেছে।” এই বলে তিনি বৃদ্ধকে তাড়িয়ে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলেন। অথচ একটু আগেই সেই ধনী ব্যক্তিটি তার ঘরের দামি পোষা বিড়ালের জন্য বিদেশ থেকে আনা দামি খাবার কিনছিলেন。
(ক) ‘মানুষ’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
উত্তর: ‘মানুষ’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
(খ) “মূর্খরা সব শোনো, মানুষ এনেছে গ্রন্থ, গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোনো”— চরণটি বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: চরণটি দ্বারা মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব এবং ধর্মের চেয়ে মানুষের জীবনের মূল্য যে অনেক বেশি, তা বোঝানো হয়েছে।
পৃথিবীতে যত পবিত্র ধর্মগ্রন্থ (যেমন: কুরআন, বাইবেল, গীতা ইত্যাদি) এসেছে, তা মানুষের কল্যাণ ও হেদায়েতের জন্যই এসেছে। মানুষই এই গ্রন্থগুলোর বাণী ধারণ করে এবং প্রচার করে। মানুষের অস্তিত্ব না থাকলে গ্রন্থের কোনো মূল্য থাকত না। কিন্তু সমাজ ও ধর্মের কিছু অন্ধ অনুসারী মানুষের চেয়ে গ্রন্থ বা আচার-অনুষ্ঠানকে বড় করে দেখে, যা অত্যন্ত ভুল। মানুষের মর্যাদা সবার ওপরে—এই শাশ্বত সত্যটি বোঝাতেই কবি উক্তিটি করেছেন।
(গ) উদ্দীপকের ধনী ব্যক্তির আচরণ ‘মানুষ’ কবিতার বুখারী ও মোল্লা-পুরোহিতের আচরণের সাথে কীভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: উদ্দীপকের ধনী ব্যক্তির আচরণ ‘মানুষ’ কবিতার স্বার্থপর মোল্লা ও পুরোহিতের চরম অমানবিক ও নিষ্ঠুর আচরণের সাথে হুবহু সাদৃশ্যপূর্ণ।
‘মানুষ’ কবিতায় দেখা যায়, এক বুখারী (ক্ষুধার্ত মানুষ) সাত দিন না খেয়ে মন্দিরের দরজায় গেলে পূজারী দেবতা মনে করে দরজা খোলে, কিন্তু ভিক্ষুক দেখে মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দেয়। আবার মসজিদের মোল্লা সাহেবও প্রচুর জমানো খাবার থাকা সত্ত্বেও ক্ষুধার্ত মুসাফিরকে নামাজ না পড়ার অজুহাতে তাড়িয়ে দেয় এবং দরজা বন্ধ করে দেয়। তারা ধর্মের দোহাই দিয়ে খোদার সৃষ্টির চেয়ে নিজেদের স্বার্থ ও অহংকারকে বড় করে দেখেছে।
উদ্দীপকের ধনী ব্যক্তিটিও ঠিক একই মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। দরজায় আসা তীব্র শীতে কাতর ও ক্ষুধার্ত বৃদ্ধকে খাবার ও কম্বল না দিয়ে চরম নিষ্ঠুরভাবে তাড়িয়ে দিয়েছেন। অথচ নিজের বিলাসী জীবনের অংশ হিসেবে পোষা বিড়ালের পেছনে অকাতরে টাকা খরচ করছেন। মানুষের প্রতি তার এই চরম অবহেলা ও নির্মমতা ‘মানুষ’ কবিতার সেই স্বার্থপর মোল্লা ও পুরোহিতের ভণ্ডামিরই প্রতিচ্ছবি, যারা মানুষের ক্ষুধার চেয়ে নিজেদের অহংকারকে প্রাধান্য দিয়েছিল।
(ঘ) “উদ্দীপকটি যেন ‘মানুষ’ কবিতার মূল চেতনা তথা ‘সবার উপরে মানুষ সত্য’—এই বাণীর উল্টো পিঠ।”— মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো。
উত্তর: “উদ্দীপকটি যেন ‘মানুষ’ কবিতার মূল চেতনা তথা ‘সবার উপরে মানুষ সত্য’—এই বাণীর উল্টো পিঠ”— মন্তব্যটি অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত ও যথার্থ।
কাজী নজরুল ইসলামের ‘মানুষ’ কবিতার মূল দর্শন হলো সাম্যবাদ ও মানবতাবাদ। কবি ঘোষণা করেছেন যে, মানুষের চেয়ে বড় কিছু আর হতে পারে না, না কোনো জাতি, না কোনো ধর্ম। খোদার দেওয়া আলো-বাতাস যেমন সবার জন্য উন্মুক্ত, তেমনি পৃথিবীর সম্পদও সব মানুষের প্রাপ্য। কিন্তু সমাজের শোষক ও ভণ্ড ধর্মব্যবসায়ীরা মানুষকে অবহেলা করে। কবিতাটির মূল লক্ষ্য হলো এই অমানবিকতার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মানুষের জয়গান গাওয়া।
অন্যদকে, উদ্দীপকটিতে মানুষের এই শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদাকে ভুলুণ্ঠিত হতে দেখা গেছে। এখানে ফুটে উঠেছে সমাজের এক নিষ্ঠুর বাস্তব চিত্র, যেখানে একজন মানুষের মৌলিক চাহিদা (অন্ন, বস্ত্র) পূরণ করার চেয়ে পশুর বিলাসিতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ধনী ব্যক্তিটি ক্ষুধার্ত মানুষকে তাড়িয়ে দিয়ে মানবতাকে চরমভাবে অপমান করেছেন। এটি কবিতার মূল চেতনার (মানবতার জয়গান) সম্পূর্ণ বিপরীত বা অন্ধকার দিকটিকে (মানুষের নিষ্ঠুরতা) প্রদর্শন করে।
সুতরাং, কবিতা যেখানে মানুষকে সর্বোচ্চ আসনে বসানোর আহ্বান জানায়, উদ্দীপক সেখানে মানুষের চরম অবমাননার বাস্তব রূপ দেখায়। তাই উদ্দীপকটিকে ‘মানুষ’ কবিতার মূল মানবতাবাদী বাণীর উল্টো পিঠ বা নেতিবাচক দিক বলা সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
৭. ‘মহাজাগতিক কিউরেটর’ গল্প অবলম্বনে সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
উদ্দীপক:
ভিনগ্রহের বিজ্ঞানী ক্রিপটন ও জেনন পৃথিবী নামক গ্রহে এসে পৌঁছায়। তারা এই গ্রহের বিভিন্ন জীববৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণ করে অবাক হয়। তারা দেখে, ডাইনোসররা বিশাল দেহ নিয়েও বিলুপ্ত হয়ে গেছে, তিমির মতো বিশাল জলচর প্রাণীও আজ সংকটে। তারা লক্ষ্য করে যে, মানুষ নামের বুদ্ধিমান প্রাণীটি নিজেদের শ্রেষ্ঠ দাবি করলেও তারা প্রতিনিয়ত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে, বন জঙ্গল কেটে ধ্বংস করছে এবং নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করে পৃথিবীর পরিবেশ বিষাক্ত করে তুলছে। বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্ত নেয়, পৃথিবীর সুরক্ষার জন্য মানুষকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো সুশৃঙ্খল প্রাণীকে তারা তাদের জাদুঘরের জন্য নমুনা হিসেবে নিয়ে যাবে。
(ক) ‘মহাজাগতিক কিউরেটর’ গল্পটি কার লেখা?
উত্তর: ‘মহাজাগতিক কিউরেটর’ গল্পটি প্রখ্যাত বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি লেখক মুহাম্মদ জাফর ইকবালের লেখা।
(খ) কিউরেটরদ্বয় মানুষকে শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাল কেন?
উত্তর: মানুষের আত্মবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড, যুদ্ধবাজ মানসিকতা এবং পৃথিবীর পরিবেশ ধ্বংস করার প্রবণতার কারণে কিউরেটরদ্বয় মানুষকে শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়।
মহাজাগতিক কিউরেটররা মহাবিশ্বের সেরা নমুনা সংগ্রহের জন্য পৃথিবীতে এসেছিল। মানুষ বুদ্ধিমান প্রাণী হলেও তারা নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করে, পারমাণবিক অস্ত্র বানায় এবং নিজেদের গ্রহের পরিবেশ নিজেরাই ধ্বংস করে। কোনো সুস্থ ও বুদ্ধিমান প্রজাতি নিজের বাসস্থান ধ্বংস করতে পারে না। মানুষের এই আত্মঘাতী স্বভাবের কারণেই কিউরেটররা তাদের শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে বিবেচনা করেনি।
(গ) উদ্দীপকের ভিনগ্রহের বিজ্ঞানীদের চিন্তাভাবনা ‘মহাজাগতিক কিউরেটর’ গল্পের কিউরেটরদের ভাবনার সাথে কীভাবে মিলে যায়? আলোচনা করো।
উত্তর: উদ্দীপকের বিজ্ঞানীদের চিন্তাভাবনা ‘মহাজাগতিক কিউরেটর’ গল্পের মূল চরিত্র কিউরেটরদ্বয়ের বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যায়নের সাথে হুবহু মিলে যায়।
গল্পে আমরা দেখি, দুই মহাজাগতিক কিউরেটর পৃথিবীর বিভিন্ন প্রাণী যেমন—হাতি, তিমি, বাঘ ও ডাইনোসরকে পর্যবেক্ষণ করে তাদের সীমাবদ্ধতা খুঁজে পায়। শেষে তারা মানুষকে নিয়ে আলোচনা করে এবং সিদ্ধান্ত নেয় যে মানুষ অত্যন্ত বিপজ্জনক ও ক্ষতিকর প্রাণী, যারা নিজেদের পরিবেশ নিজেরাই ধ্বংস করছে। তাই তারা মানুষকে বাদ দিয়ে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, পরিশ্রমী ও পরোপকারী সামাজিক জীব ‘পিঁপড়া’কে শ্রেষ্ঠ নমুনা হিসেবে নির্বাচিত করে।
উদ্দীপকেও দেখা যাচ্ছে, ক্রিপটন ও জেনন নামের ভিনগ্রহের বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর পরিবেশ ধ্বংসের জন্য এবং পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কার জন্য সরাসরি মানুষকে দায়ী করেছে। মানুষের এই নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের কারণে তারা মানুষকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো সুশৃঙ্খল প্রাণীকে জাদুঘরের জন্য বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। উভয় ক্ষেত্রেই মানুষের বুদ্ধি খাটিয়ে পৃথিবীর ক্ষতি করার প্রবণতাকে তীব্রভাবে কটাক্ষ করা হয়েছে। তাই উদ্দীপকের বিজ্ঞানীদের ভাবনা গল্পের কিউরেটরদের ভাবনারই প্রতিচ্ছবি।
(ঘ) “উদ্দীপক এবং ‘মহাজাগতিক কিউরেটর’ গল্প—উভয়ই মানুষের অহংকারকে চূর্ণ করে পরিবেশ সচেতনতার এক প্রচ্ছন্ন বার্তা দেয়।”— বিশ্লেষণ করো。
উত্তর: “উদ্দীপক এবং ‘মহাজাগতিক কিউরেটর’ গল্প—উভয়ই মানুষের অহংকারকে চূর্ণ করে পরিবেশ সচেতনতার এক প্রচ্ছন্ন বার্তা দেয়।”— মন্তব্যটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও সত্য।
মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব বা ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ হিসেবে নিজেদের নিয়ে চরম অহংকার করে। মানুষ ভাবে পুরো পৃথিবী এবং এর সম্পদ কেবল তাদের ভোগের জন্য। কিন্তু মুহাম্মদ জাফর ইকবাল তার সায়েন্স ফিকশন গল্পের মাধ্যমে মানুষের এই শ্রেষ্ঠত্বের অহংকারকে চরম এক ধাক্কা দিয়েছেন। ভিনগ্রহের নিরপেক্ষ কিউরেটরদের চোখে মানুষের চেয়ে একটি ক্ষুদ্র পিঁপড়াও অনেক বেশি যোগ্য ও পৃথিবীর জন্য কল্যাণকর। গল্পটি আমাদের চোখ খুলে দেয় যে, আমরা প্রতিনিয়ত গাছ কেটে, নদী দূষণ করে পৃথিবীকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছি।
উদ্দীপকটিও একই সুর প্রকাশ করেছে। মানুষ নিজেদের শ্রেষ্ঠ দাবি করলেও তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের উন্মাদনা এবং বন-জঙ্গল ধ্বংসের চিত্র ভিনগ্রহের বিজ্ঞানীদের বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ করেছে। তারাও মানুষকে পৃথিবীর জন্য একটি ‘অযোগ্য’ প্রজাতি হিসেবে গণ্য করেছে। এটি মানুষের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং একই সাথে একটি বড় সতর্কবার্তা।
অতএব, গল্প এবং উদ্দীপক উভয়ই রূপক অর্থে মানুষের চরম অহংকারকে চূর্ণ করেছে। এর মূল উদ্দেশ্য মানুষকে হেয় করা নয়, বরং মানুষকে এটা বোঝানো যে, যদি তারা এখনই পরিবেশ ধ্বংস করা এবং যুদ্ধবিগ্রহ বন্ধ না করে, তবে মহাবিশ্বের দরবারে তারা সবচেয়ে নিকৃষ্ট প্রজাতি হিসেবেই গণ্য হবে। এই পরিবেশ সচেতনতার বার্তাটিই উভয় রচনার মূল ভিত্তি।
৮. ‘নুরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতা অবলম্বনে সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
উদ্দীপক:
পরাধীন বাংলায় যখনই সাধারণ মানুষের ওপর ইংরেজ শাসক কিংবা তাদের এদেশীয় দোসর জমিদাররা অত্যাচার চালাত, তখনই تিতুমীর বাঁশের কেল্লা তৈরি করে প্রতিরোধ গড়ে তুলতেন। তিনি বাংলার কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। আজ শত বছর পরও যখনই দেশে কোনো রাজনৈতিক সংকট, স্বৈরাচারী শাসন কিংবা সাধারণ মানুষের অধিকার হরণের ঘটনা ঘটে, তখনই দেশের মুক্তিকামী জনতা তিতুমীরের সেই আপসহীন সংগ্রামের কথা স্মরণ করে উদ্বুদ্ধ হয় এবং রাজপথে নেমে আসে。
(ক) ‘নুরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতাটি কোন কাব্যনাট্যের অংশ?
উত্তর: ‘নুরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতাটি সৈয়দ শামসুল হকের ‘নুরলদীনের সারাজীবন’ কাব্যনাট্যের অংশ।
(খ) “নুরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়— যখন শকুন নেমে আসে এই সোনার বাংলায়।”— উক্তিটি বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: উক্তিটি দ্বারা দেশে যখনই কোনো বহيراগত শত্রু, অত্যাচারী শাসক বা শোষক গোষ্ঠী অন্যায়ভাবে ক্ষমতা দখল করে সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত করে তোলে, তখন নুরলদীনের মতো সাহসী নেতাজাগরণের প্রয়োজনীয়তাকে বোঝানো হয়েছে।
কবিতায় ‘শকুন’ হলো শোষক ও অত্যাচারী শক্তির প্রতীক (যেমন: ১৯৭১ সালের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী)। কবি যখনই দেখেন তার প্রিয় জন্মভূমি কোনো অপশক্তির দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে, মানুষের স্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে, তখনই তার মনে পড়ে যায় ১৭৮৩ সালের রংপুর বিদ্রোহের মহানায়ক নুরলদীনের কথা। নুরলদীনের সেই কালজয়ী ডাক “জাগো বাহে, কোনঠে সবায়” যেন বর্তমান সংকটেও মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে জেগে ওঠার প্রেরণা জোগায়—এটাই কবি বুঝিয়েছেন।
Read More:-SSC Biology তে A+ পেতে যা মানতে হবে: সেরা প্রস্তুতি গাইড এবং শেষ মুহূর্তের কৌশল
(গ) উদ্দীপকের তিতুমীরের সংগ্রাম ‘নুরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতার কোন ঐতিহাসিক সত্যকে নির্দেশ করে? আলোচনা করো।
উত্তর: উদ্দীপকের তিতুমীরের সংগ্রাম ‘নুরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতার অত্যাচারী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের প্রতিরোধ এবং ঐতিহাসিক কৃষক বিদ্রোহের সত্যকে নির্দেশ করে।
‘নুরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতায় ব্রিটিশ আমলের রংপুর অঞ্চলের কৃষক নেতা নুরলদীনের বীরত্বগাথা তুলে ধরা হয়েছে। নুরলদীন যেভাবে সাধারণ শোষিত কৃষকদের একত্র করে ব্রিটিশ ও ইজারাদারদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ডাক দিয়েছিলেন, তা বাংলার ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। কবি এই ঐতিহাসিক চরিত্রকে বর্তমান যুগের সকল অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
উদ্দীপকের তিতুমীরও বাংলার এক মহান ঐতিহাসিক বীর, যিনি ব্রিটিশদের নীল চাষ এবং জমিদারদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে বাঁশের কেল্লা গড়ে তুলে বীরত্বের সাথে লড়াই করেছিলেন। নুরলদীন এবং তিতুমীর উভয়েই বাংলার মাটির সন্তান এবং উভয়েরই লক্ষ্য ছিল সাধারণ মেহনতি মানুষের অধিকার রক্ষা করা। তিতুমীরের এই প্রতিরোধ সংগ্রাম সরাসরি নুরলদীনের ঐতিহাসিক বিদ্রোহের সাথে সমান্তরাল ভাব প্রকাশ করে। তাই বলা যায়, তিতুমীরের সংগ্রাম কবিতার ঐতিহাসিক প্রতিরোধ চেতনাকেই নির্দেশ করে।
(ঘ) “অতীতের বীরদের সংগ্রামই বর্তমান ও ভবিষ্যতের যেকোনো সংকটে অবদমিত জাতিকে জেগে ওঠার প্রেরণা জোগায়”— উদ্দীপক ও কবিতার আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো
উত্তর: “অতীতের বীরদের সংগ্রামই বর্তমান ও ভবিষ্যতের যেকোনো সংকটে অবদমিত জাতিকে জেগে ওঠার প্রেরণা জোগায়”— মন্তব্যটি চিরন্তন সত্য এবং উদ্দীপক ও কবিতার মূল ভাবার্থের আলোকে সম্পূর্ণ যথার্থ।
ইতিহাসের বীরেরা কখনো মরে যান না, তারা তাদের কর্ম ও চেতনার মাধ্যমে যুগে যুগে বেঁচে থাকেন। সৈয়দ শামসুল হক তার কবিতায় দেখিয়েছেন যে, ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে যখন পাকিস্তানি শাসকেরা বাঙালির ওপর জুলুম শুরু করেছিল, তখন কবির মনে নুরলদীনের কথা বারবার মনে পড়ছিল। নুরলদীনের সেই বিখ্যাত স্লোগান “জাগো বাহে, কোনঠে সবায়” বাঙালির হৃদয়ে নতুন করে শক্তি জুগিয়েছিল এবং তাদের স্বাধীনতার যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছিল। অতীতের একটি আঞ্চলিক বিদ্রোহ কীভাবে পুরো জাতির মুক্তির প্রেরণা হয়ে উঠতে পারে, তা-ই এই কবিতায় প্রকাশিত।
উদ্দীপকেও এই একই সত্য প্রতিধ্বনিত হয়েছে। তিতুমীর আজ বেঁচে নেই, কিন্তু তার বাঁশের কেল্লার লড়াইয়ের ইতিহাস আজও শেষ হয়ে যায়নি। বর্তমান যুগেও যখন দেশে কোনো স্বৈরাচারী শাসন বা সংকট দেখা দেয়, তখন এদেশের মানুষ তিতুমীরের আপসহীন সংগ্রামের কথা স্মরণ করে অনুপ্রাণিত হয়। তারা অন্যায় মেনে না নিয়ে তিতুমীরের মতো বুক চিতিয়ে রাজপথে নেমে আসে।
পরিশেষে বলা যায়, নুরলদীন কিংবা তিতুমীর—এঁরা কেবল ইতিহাসের পাতায় বন্দি কোনো চরিত্র নন, বরং এরা হলেন জাতির সংকট মোচনের চিরন্তন বাতিঘর। যখনই জাতি দিকবিদিক হারিয়ে ফেলে বা শোষণের শিকার হয়, তখনই এই বীরদের সংগ্রামী চেতনা বাঙালিকে নতুন করে জেগে ওঠার সাহস ও শক্তি জোগায়। তাই মন্তব্যটি অত্যন্ত নিখুঁত ও বাস্তবসম্মত।
৯. ‘পদ্মাবতী’ কবিতা অবলম্বনে সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
উদ্দীপক:
সমুদ্রে এক ভয়াবহ ঝড়ের কবলে পড়ে এক বণিকের জাহাজ ডুবে যায়। বণিকের সুন্দরী কন্যা আয়েশা একটি কাঠের টুকরো আঁকড়ে ধরে অলৌকিকভাবে এক নির্জন দ্বীপের সৈকতে এসে পৌঁছায়। আয়েশা তখন সম্পূর্ণ অচেতন এবং তার শরীর ছিল রক্তাক্ত। ওই দ্বীপের এক দয়ালু সাধু তার কন্যাদের নিয়ে সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে এসে আয়েশাকে মরণাপন্ন অবস্থায় দেখতে পান। সাধু আয়েশার রূপ দেখে এবং তার এই অবস্থা দেখে অত্যন্ত ব্যথিত হন। তিনি তৎক্ষণাৎ তার কন্যাদের আদেশ দেন আয়েশাকে কুটিরে নিয়ে যেতে এবং নিজেরা রাত-দিন সেবা ও ভেষজ ওষুধ দিয়ে আয়েশার জ্ঞান ফিরিয়ে আনেন。
(ক) ‘পদ্মাবতী’ কবিতাটি কোন কবির রচনা?
উত্তর: ‘পদ্মাবতী’ কবিতাটি মধ্যযুগের বিখ্যাত কবি আলাওলের রচনা।
(খ) “পিতৃ-ব্যথা মনে ভাবি, মুখে না নিঃস্বরে রাবি”— চরণটি বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: চরণটি দ্বারা অচেতন পদ্মাবতীর রূপ ও রাজকীয় মর্যাদা দেখে এবং তার বাবার (রত্নসেনের) সম্ভাব্য গভীর মানসিক কষ্টের কথা চিন্তা করে সমুদ্রকন্যার (পদ্মার) স্তব্ধ ও নির্বাক হয়ে যাওয়ার অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে।
সমুদ্রের তীরে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকা পদ্মাবতীকে দেখে সমুদ্রকন্যা পদ্মা বুঝতে পেরেছিলেন যে, ইনি কোনো সাধারণ নারী নন, কোনো এক রাজা বা ভাগ্যবানের কন্যা। এমন এক রাজকন্যা আজ মরণাপন্ন অবস্থায় সৈকতে পড়ে আছেন—এই দৃশ্য দেখে এবং তার পিতার বুকফাটা আর্তনাদের কথা কল্পনা করে পদ্মা অত্যন্ত সমব্যাথী হয়ে পড়েন। তীব্র দুঃখ ও বেদনায় পদ্মার মুখ থেকে কোনো কথা বের হচ্ছিল না—এটাই এখানে প্রকাশ পেয়েছে।
(গ) উদ্দীপকের সাধুর আচরণ ‘পদ্মাবতী’ কবিতার কোন চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: উদ্দীপকের দয়ালু সাধুর আচরণ ‘পদ্মাবতী’ কবিতার মূল চরিত্র সমুদ্রকন্যা ‘পদ্মা’র আচরণের সাথে গভীর সাদৃশ্যপূর্ণ।
‘পদ্মাবতী’ কবিতায় দেখা যায়, সমুদ্রের তীরে চার সখীর মাঝে অচেতন ও রাজকীয় সৌন্দর্যের অধিকারী পদ্মাবতীকে পড়ে থাকতে দেখে সমুদ্রকন্যা পদ্মা পরম করুণায় আপ্লুত হন। তিনি পদ্মাবতীর এই দুঃখজনক অবস্থা দেখে তার প্রাণ বাঁচানোর জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। পদ্মা তার সখীদের সহায়তায় তন্ত্র-মন্ত্র, ভেষজ চিকিৎসা এবং গরম কাপড়ের সেক দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে পরম যত্নে পদ্মাবতী ও তার সখীদের জ্ঞান ফিরিয়ে আনার আপ্রধান চেষ্টা করেন।
উদ্দীপকের সাধু চরিত্রটিও ঠিক একই মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন। সমুদ্রে জাহাজ ডুবির পর অচেতন ও রক্তাক্ত অবস্থায় আয়েশাকে সৈকতে পড়ে থাকতে দেখে তিনি মুখ ফিরিয়ে নেননি। বরং তার রূপ ও অসহায়ত্ব দেখে ব্যথিত হয়ে নিজের কন্যাদের নির্দেশ দিয়েছেন তাকে বাঁচাতে। রাত-দিন সেবা ও ভেষজ ওষধি দিয়ে আয়েশার প্রাণ রক্ষা করেছেন। পদ্মাবতীর প্রতি সমুদ্রকন্যা পদ্মার যে নিঃস্বার্থ পরোপকারী ও সেবামূলক আচরণ ছিল, আয়েশার প্রতি সাধুর আচরণেও ঠিক তারই প্রতিফলন ঘটেছে। তাই সাধুর চরিত্রটি সরাসরি পদ্মার চরিত্রের প্রতিরূপ।
(ঘ) “উদ্দীপকটি ‘পদ্মাবতী’ কবিতার মূল উপজীব্য তথা ‘মানবিক সহানুভূতি ও আর্তের সেবা’র দিকটিকে সফলভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।”— মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো
উত্তর: “উদ্দীপকটি ‘পদ্মাবতী’ কবিতার মূল উপজীব্য তথা ‘মানবিক সহানুভূতি ও আর্তের সেবা’র দিকটিকে সফলভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।”— মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
কবি আলাওলের ‘পদ্মাবতী’ কবিতাটি মধ্যযুগীয় আখ্যানকাব্য হলেও এর মূল সুর ছিল আধুনিক ও মানবিক। কোনো মানুষ যখন চরম বিপদে পড়ে বা মৃত্যুর মুখোমুখি হয়, তখন জাতি, ধর্ম বা পরিচয় না খুঁজে তাকে সাহায্য করাই মানুষের পরম ধর্ম। সমুদ্রকন্যা পদ্মা স্বর্গের বা অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও মর্ত্যের এক রাজকন্যার দুঃখে কেঁদেছেন এবং তাকে সুস্থ করতে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছেন। নিজের সমস্ত শক্তি ও মনোযোগ দিয়ে তিনি মরণাপন্ন পদ্মাবতীর প্রাণ ফিরিয়ে এনেছেন, যা আর্তের সেবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
উদ্দীপকের কাহিনীতেও ঠিক এই একই মানবিক দর্শনের প্রকাশ ঘটেছে। অপরিচিত ও রক্তাক্ত আয়েশাকে দেখে সাধু ও তার কন্যারা যেভাবে নিজেদের নিয়োজিত করেছেন, তা মানবতাবোধেরই বহিঃপ্রকাশ। এখানে কোনো স্বার্থ ছিল না, ছিল কেবল একজন মুমূর্ষু মানুষকে বাঁচানোর আকুলতা। আয়েশার প্রতি সাধুর এই পরম মমতা ও নিরলস সেবা কবিতার পদ্মাবতীর প্রতি সমুদ্রকন্যা পদ্মার ঐশ্বরিক ও মানবিক সেবার কথাই মনে করিয়ে দেয়।
সংক্ষেপে বলা যায়, উভয় ক্ষেত্রেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার অসহায় নারীর প্রতি অন্য এক সহৃদয় ব্যক্তির নিঃস্বার্থ সহানুভূতি ও সেবার মাধ্যমে জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে। অতএব, উদ্দীপকটি ‘পদ্মাবতী’ কবিতার মূল আবেদন ও মানবিক চেতনাকে নিখুঁতভাবে ধারণ করতে সক্ষম হয়েছে।
Read More:-ডুয়েটে ভর্তি হতে চান? আবেদন পদ্ধতি, যোগ্যতা ও সফল হওয়ার পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন
১০. ‘বিলাসী’ ও ‘দেনাপাওনা’র সমন্বয়ে মিশ্র সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
উদ্দীপক:
গ্রামের এক ধনী ও প্রভাবশালী মাতব্বরের মেয়ে সালমা。 সে ভালোবেসে বিয়ে করে এক দরিদ্র রিকশাচালকের শিক্ষিত ছেলে আরিফকে। সালমার বাবা এই বিয়ে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেন না। তিনি আরিফের পরিবারকে গ্রাম ছাড়া করার জন্য গুণ্ডা বাহিনী পাঠান এবং সালমাকে ঘরে বন্দি করে রাখেন। সালমার বাবা বলেন, “টাকা আর বংশমর্যাদাই সব, ছোটলোকের সাথে আমার মেয়ের কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে না।” কিন্তু সালমা সমস্ত বাধা ভেঙে, রাতের অন্ধকারে ঘর থেকে পালিয়ে আরিফের কুটিরে চলে আসে এবং দারিদ্র্যকে মেনে নিয়ে সুখী জীবন গড়তে শুরু করে。
(ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোন উপাধিতে ভূষিত ছিলেন?
উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘অপরাজেয় কথাশিল্পী’ উপাধিতে ভূষিত ছিলেন।
(খ) ‘দেনাপাওনা’ গল্পে নিরুপমার শেষ পরিণতি কী হয়েছিল?
উত্তর: ‘দেনাপাওনা’ গল্পে নিরুপমা যৌতুকের কারণে শ্বশুরবাড়ির চরম অবহেলা, মানসিক নির্যাতন ও চিকিৎসার অভাবে তিলে তিলে করুণ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিল।
যৌতুকের বকেয়া টাকা না পাওয়ায় নিরুর শাশুড়ি ও শ্বশুর তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে নিরু গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেও তার জন্য কোনো ডাক্তার ডাকা হয়নি বা চিকিৎসা করা হয়নি। নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন না দিয়ে, এক বুক কষ্ট নিয়ে নিরুপমা অবশেষে মৃত্যুবরণ করে।
(গ) উদ্দীপকের সালমার বাবার মানসিকতা ‘দেনাপাওনা’ গল্পের কোন চরিত্রের নেতিবাচক দিককে স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: উদ্দীপকের সালমার বাবার মানসিকতা ‘দেনাপাওনা’ গল্পের মূল খলচরিত্র অর্থাৎ নিরুপমার শ্বশুর ‘রায়বাহাদুর’ এবং তার শাশুড়ির লোভী ও নিষ্ঠুর মানসিকতাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
‘দেনাপাওনা’ গল্পে রায়বাহাদুর ছিলেন একজন অত্যন্ত অর্থলোভী, নিষ্ঠুর এবং অহংকারী ব্যক্তি। তিনি মানুষের জীবনের চেয়ে টাকা, যৌতুক এবং সমাজের তথাকথিত মিথ্যা মর্যাদাকে বড় করে দেখতেন। রামসুন্দর রায় যৌতুকের পুরো টাকা দিতে না পারায় তিনি নিরুপমাকে ঘরের দাসী বানিয়ে রাখেন এবং চরম অপমান করেন। মানবিকতা বা স্নেহের কোনো স্থান তার কাছে ছিল না।
উদ্দীপকের সালমার বাবাও ঠিক একইভাবে অর্থ ও বংশমর্যাদার অহংকারে অন্ধ। তিনি নিজের মেয়ের সুখের চেয়ে নিজের সামাজিক স্ট্যাটাস ও টাকার দেমাগকে বড় করে দেখেছেন। আরিফ দরিদ্র হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষিত—এই যোগ্যতাকে মূল্যায়ন না করে তাকে ‘ছোটलोग’ বলে সম্বোধন করেছেন এবং গুণ্ডা পাঠিয়ে তার পরিবারকে উচ্ছেদ করতে চেয়েছেন। সালমার বাবার এই অর্থলিপ্সা, জাত-অভিমান এবং অমানবিক দৃষ্টিভঙ্গি সরাসরি ‘দেনাপাওনা’ গল্পের রায়বাহাদুরের নিষ্ঠুর আভিজাত্যের অহংকারের সাথেই মিলে যায়।
(ঘ) “সালমার সাহসী পদক্ষেপ যেন ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসীর সামাজিক বিদ্রোহেরই এক আধুনিক রূপ।”— মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: “সালমার সাহসী পদক্ষেপ যেন ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসীর সামাজিক বিদ্রোহেরই এক আধুনিক রূপ”— মন্তব্যটি অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত ও অনস্বীকার্য।
‘বিলাসী’ গল্পে বিলাসী ছিল তৎকালীন রক্ষণশীল ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন হিন্দু সমাজের বিরুদ্ধে এক নীরব কিন্তু শক্তিশালী বিদ্রোহের প্রতীক। মৃত্যুঞ্জয় কায়স্থ বংশের ছেলে হওয়া সত্ত্বেও সাপুড়ের মেয়ে বিলাসী তাকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিল। সমাজপতিরা যখন তাদের ওপর নির্যাতন চালায়, মৃত্যুঞ্জয়কে মারধর করে এবং বিলাসীকে লাঞ্ছিত করে, তখনো বিলাসী সমাজপতিদের সামনে মাথা নত করেনি। সে সমাজের তথাকথিত জাত-প্রথার মুখে ছাই দিয়ে মৃত্যুঞ্জয়ের সাথে জঙ্গলের কুটিরে পরম সুখে সংসার করেছে। বিলাসীর এই সিদ্ধান্ত ছিল সমাজের নিষ্ঠুর নিয়মের বিরুদ্ধে এক চরম প্রতিরোধ।
উদ্দীপকের সালমার ক্ষেত্রেও আমরা একই রকম সাহসী ও বিদ্রোহী সত্তার দেখা পাই। সালমা ধনী ঘরের মেয়ে হওয়া সত্ত্বেও সমাজের তৈরি করা ধনী-দরিদ্রের দেয়াল এবং বাবার আভিজাত্যের অহংকারকে buro আঙুল দেখিয়েছে। সে আরিফকে ভালোবেসে তার বাবার বন্দিশালা ও গুণ্ডাবাহিনীর ভয়কে উপেক্ষা করে রাতের অন্ধকারে পালিয়ে এসেছে। সে বিলাসী জীবনের মোহ ত্যাগ করে আরিফের দরিদ্র কুটিরকে বেছে নিয়েছে, যা প্রমাণ করে যে তার কাছে ভালোবাসার মূল্য সামাজিক মর্যাদার চেয়ে অনেক বেশি।
সুতরাং, বিলাসী যেভাবে জাত-পাত ও সমাজপতিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে নিজের ভালোবাসাকে জয়ী করেছিল, সালমাও ঠিক একইভাবে শ্রেণী বৈষম্য ও পারিবারিক একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে আরিফের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। এই সাহসিকতা ও আপসহীনতার কারণেই সালমার পদক্ষেপকে বিলাসীর সামাজিক বিদ্রোহের এক আধুনিক ও বাস্তব রূপ বলা সম্পূর্ণ সার্থক ও যথাযথ।
HSC বাংলা ১ম পত্র পরীক্ষা নিশ্চিত ভালো করার এক্সপার্ট টিপস
- সৃজনশীল প্রশ্নের সময় বণ্টন: পরীক্ষায় মোট ৭টি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। প্রতিটি প্রশ্নের জন্য গড়ে ২১-২২ মিনিট সময় পাবে। তাই ঘড়ি ধরে লেখার অভ্যাস করো যেন কোনো উত্তর অসম্পূর্ণ না থাকে।
- জ্ঞানমূলক (ক) ও অনুধাবনমূলক (খ) প্রশ্নের নিখুঁত উত্তর: ‘ক’ এর উত্তর সরাসরি এক লাইনে লিখবে। ‘খ’ এর উত্তরের জন্য দুটি প্যারা করবে—প্রথম প্যারায় মূল জ্ঞানটি এবং দ্বিতীয় প্যারায় ২-৩ লাইনে সেটির ব্যাখ্যা।
- প্রয়োগ (গ) এবং উচ্চতর দক্ষতা (ঘ) লেখার কৌশল: ‘গ’ এর উত্তর ৩টি প্যারায় (জ্ঞান, অনুধাবন ও উদ্দীপকের সাথে তুলনা) এবং ‘ঘ’ এর উত্তর ৪টি প্যারায় (জ্ঞান, অনুধাবন, উদ্দীপকের বিশ্লেষণ ও চূড়ান্ত মন্তব্য) লিখবে। অপ্রাসঙ্গিক কথা লিখে খাতা বড় করার চেয়ে টু-দ্য-পয়েন্ট লিখলে পূর্ণ নম্বর পাওয়া সহজ হয়।
- মূল বই (Text Book) রিডিং পড়া: সৃজনশীল প্রশ্নের উদ্দীপকগুলো যেকোনো অবাস্তব বা নতুন প্রেক্ষাপট থেকে হতে পারে। কিন্তু তুমি যদি মূল গল্প ও কবিতার লাইন টু লাইন ও কবি পরিচিতি ভালোভাবে বুঝে পড়ো, তবে যেকোনো উদ্দীপকই খুব সহজে মূল ভাবের সাথে মেলাতে পারবে।
প্রিয় শিক্ষার্থীবন্ধুরা, তোমাদের পরীক্ষা নিয়ে ভয়ের কোনো কারণ নেই। সৃজনশীল পদ্ধতি আসলে মুখস্থ বিদ্যার অবসান ঘটিয়ে তোমাদের নিজস্ব চিন্তাভাবনাকে প্রকাশ করার একটি চমৎকার সুযোগ। ওপরের প্রশ্ন ও উত্তরগুলো ভালো করে অনুশীলন করো এবং নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস রাখো। নিয়মিত পড়ালেখা ও সঠিক কাঠামোর চর্চায় তোমরা অবশ্যই বাংলা প্রথম পত্রে A+ (এ প্লাস) অর্জন করতে পারবে। তোমাদের সবার জন্য শুভকামনা ও শুভ সকাল!