সম্প্রতি বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে, যেখানে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এখন থেকে কোনো শিক্ষার্থী থেকে পুনঃভর্তি ফি (readmission fee) নেওয়া যাবে না বলে বেধে দেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনটি শিক্ষার্থীদের ওপর আর্থিক বোঝা কমাতে এবং শিক্ষা খাতের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে।
নতুন নীতিমালার মূল বিষয়সমূহ
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নীতিমালা, ২০২৬’ প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে:
- একবার কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি শিক্ষার্থী পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হলে কোন ভাবেই পুনঃভর্তি ফি নিতে পারবে না।
- এই সিদ্ধান্তটি প্রজ্ঞাপিত নীতিমালায় ধারাবদ্ধ করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের আর্থিক উপর চাপ কমানোর জন্য।
- এই নীতিমালা সরকারি স্কুল-কলেজ ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিশেষ নির্দেশ
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শুধুমাত্র ‘টিউশন ফি নীতিমালা ২০২৪’ অনুযায়ী টিউশন ফি নিতে পারবে, কিন্তু পুনঃভর্তি ফি, ভর্তি-সেশন চার্জ বা নতুন কোনো ফি গ্রহণ কোনো অবস্থাতেই করা যাবে না।
আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার লক্ষ্যে ব্যবস্থা
নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সকল আয়-ব্যয় সরকারি আর্থিক বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হবে এবং এর হিসাব-নিকাশ সঠিকভাবে রাখা বাধ্যতামূলক হবে।
Read more:-DPDT Job Circular 2026 | পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬
- প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রতিষ্ঠানের প্রধান যৌথভাবে অর্থ ব্যবস্থাপনার জন্য দায়ী থাকবেন।
- যদি কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, যদি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুনঃভর্তি ফি গ্রহণ করে, তাহলে প্রতিষ্ঠানটির এমপিও স্থগিত হতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষক বা পরিচালনা কমিটি ভুলের দায়ে শাস্তির সম্মুখীন হবে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য প্রভাব
এই সিদ্ধান্তটি দেশের লাখ বছরের শ্রেণী পরিবর্তন বা পুনঃভর্তি পর্যায়ে আর্থিক বোঝা কমাবে এবং অধিকাংশ পরিবারের জন্য শিক্ষার ব্যয় কিছুটা সহজ করে তুলবে। বিশেষ করে মধ্য-আয় ও নিম্ন-আয় শ্রেণীর পরিবারগুলোর ওপর এই পরিবর্তনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
কেন এই সিদ্ধান্ত নাওয়া হলো?
বাংলাদেশে অনেক বছর ধরে পুনঃভর্তি ফি গ্রহণের কারণে পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হতো। অভিভাবকরা অভিযোগ করেন যে পুনঃভর্তি ফি শিক্ষার্থীদের ওপর অযথা কম দেয়, বিশেষ করে যেসব পরিবার সীমিত আয়ের মধ্যে আছে। এই দীর্ঘ সময় ধরে চলা অনিয়মের কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কঠোর নীতি জারি করে পুনঃভর্তি ফি গ্রহণ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
Read Also:-RRF নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ – ৪০০ পদে বিশাল নিয়োগ, অনলাইনে আবেদন করুন এখনই!
শিক্ষার্থীদের পুনঃভর্তি ফি আর নেওয়া যাবে না — এটা এখন সরকারী নীতিমালা। ঘোষণা অনুযায়ী, সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এই নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধুমাত্র টিউশন ফি নিতে পারবে, কিন্তু পুনঃভর্তি ফি বা অন্য কোনো অতিরিক্ত খাত ব্যবহার করা যাবে না। এই সিদ্ধান্ত শিক্ষা খাতে আর্থিক স্বচ্ছতা ও শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের স্বার্থে এবং শিক্ষা খাতের উন্নয়নে এই নীতি একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Source: Click here

nicee